নাটোরে পৃথক ভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
নাটোরে শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা ও গনমিছিল সমাবেশ এর মধ্য দিয়ে পৃথক ভাবে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বছর পূর্তি।
জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন করেছে জেলা প্রশাসন।
এ উপলক্ষে বুধবার বেলা ১০ টার দিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে নাটোর শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,নাটোরের জেলা প্রশাসক আসমা শাহিন,পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম,জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক রহিম নেওয়াজ,সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ সহ জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সভায় বক্তারা বলেন, আজকের এই দিনটি আমাদের জাতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অন্যায়, বৈষম্য ও অধিকার হরণের বিরুদ্ধে মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ কখনো বৃথা যায় না।
এই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, সেই জুলাইয়ের শহিদদের আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তাঁদের আত্মত্যাগ কোনোভাবেই ভুলে যাওয়ার নয়। তাঁদের পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা ও শ্রদ্ধা।
একইসঙ্গে যারা সাহস, ত্যাগ ও প্রত্যয়ের সঙ্গে জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, সেই জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সম্মান। এর আগে জুলাই সৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পন করা হয়
অন্যদিকে বুধবার বেলা ১১ টার দিকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নাটোর জেলা শাখার আয়োজনে সমাবেশ ও গনমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। গনমিছিলটি শহরের মাদ্রাসামোড় থেকে শুরু হয়ে হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে মাদ্রাসামোড়ে এসে শেষ হয় পরে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ নাটোর জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী,সহ সভাপতি মাওলানা আব্দুল রকিব,এম এম ওমর ফারুক,সাধারন সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান সহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা বলেন অন্যায়, অবিচার, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো শক্তিই তাদের ন্যায্য দাবি থেকে বিচ্যুত করতে পারে না। যারা এই আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাদের স্মরণ করছি।
আমাদের প্রত্যাশা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।