শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে তৎপরতায় লিপ্ত রাবি শিক্ষকদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

রাবি প্রতিবেদক ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৪ অপরাহ্ন
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে তৎপরতায় লিপ্ত রাবি শিক্ষকদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে তৎপরতায় লিপ্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষকদের বিষয়ে তথ্যানুসন্ধানের জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে রাবি জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। 


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়া ও সূত্রে জানা যায় যে দেশের ২২টি পাবলিক  বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও পলাতক পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন আওয়ামী লীগ-এর সাথে গোপন যোগাযোগে লিপ্ত রয়েছেন। তার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত কিছু শিক্ষকের নামও রয়েছে।


উপরিউক্ত গোপন তৎপরতায় রাবির কোন কোন শিক্ষক জড়িত রয়েছেন সে সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধানের জন্য কর্তৃপক্ষ প্রফেসর মো. রেজাউল করিম-২ (প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগ)-কে সভাপতি করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছেন। 


কমিটির অন্যান্য সদস্য হচ্ছেন প্রফেসর মো. গোলাম ছাদিক (ফার্মেসী বিভাগ), প্রফেসর মোহাম্মদ আমীরুল ইসলাম (প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগ), প্রফেসর মো. আনিছুর রহমান (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ) ও সদস্য-সচিব প্রফেসর মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ (এগ্রোনমী এন্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগ)। উল্লিখিত বিষয়ে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য কমিটির সভাপতিকে বলা হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন আওয়ামী লীগ-এর সাথে গোপন যোগাযোগে লিপ্ত থাকার বিষয়টি রাবি কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। এধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল। এসকল অপতৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে। 


শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাবি সব সময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক বিধি-বিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু মত প্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্র ও আইনবিরোধী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হীন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এহেন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ও নৈতিক অবস্থানের প্রতি চরম অবজ্ঞাসুলভ। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তের মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন। 


আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাবি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান, আইন ও বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদার পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্য সহনশীলতার নীতি অব্যাহত থাকবে। আইন ও বিধি লংঘণকারী কেউ তার পরিচয় বা অবস্থান নির্বিশেষে দায় এড়াতে পারেন না। রাবি কর্তৃপক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখায় মনোযোগী হতে আহ্বান জানাচ্ছে।


উল্লেখ্য, ‘এশিয়া পোস্ট’ অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত একটি নিউজে দাবি করা হয়েছে, দেশের ২২টি পাবলিক  বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও পলাতক পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন আওয়ামী লীগ-এর সাথে গোপন যোগাযোগে লিপ্ত রয়েছেন। তাদের মধ্যে রাবি’র ৪২জন শিক্ষক রয়েছেন।


তাঁরা হলেন- প্রফেসর লাইলা, প্রফেসর দিলীপ, প্রফেসর রানা, প্রফেসর মামুনুর রশীদ, প্রফেসর একরামুল্লাহ, প্রফেসর মুশতাক, প্রফেসর আশরাফুল, প্রফেসর আলী হায়দার, প্রফেসর অনিক, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর খালিদ বিন ফেরদৌস, প্রফেসর দুলাল, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সাগর, প্রফেসর প্রভাব, প্রফেসর সারোয়ার জাহান, শামীম আলমগীর, প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. পূর্ব ইসলাম, উদ্বয় কুমার মহন্ত, নাসরিন নদী, দুলাল, মশিউর রহমান।


এছাড়া প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রফেসর ড. বাবরুল আলম, প্রফেসর ড. শবনম জাহান, এ. জাহিদ, অর্ক, ড. মো. দুলাল হোসেন, কামরুজ্জামান, বসির আহাম্মদ, জেহাদ পারভেজ, আর ইসলাম, নাসিম বানু, প্রফেসর আক্তার, প্রফেসর ড. এ এফ এম আব্দুল মঈন, নিরুপম চৌধুরী, হাবিবুর রহমান পলাশ, মামুন মোর্শেদ, তানভীর হাসান, ড. নজরুল, প্রফেসর ড. মো. মাহবুবুর রহমান, দেবাশীষ আচার্য, তাসনিম।


এ ছাড়াও রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন। ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন। বতর্মানে রাজশাহী বিভাগের আওয়ামীপন্থি পেশাজীবীদের সংগঠকের কাজ করছেন।