বাংলা ভাষাতেই বিজ্ঞান চর্চা, মনজয়ী পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিধাননগরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা এবং বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের প্রসারের উপর বিশেষ গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হয়। ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্মেলন-২০২৬’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি দফতরের মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী এবং সরকারি আধিকারিক মৌমিতা বিশ্বাস। বিজ্ঞানকে মানুষের কল্যাণ এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান নিয়ে আরও বেশি আলোচনা ও প্রচারের উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেন মন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, “গবেষণার মাধ্যমে নতুন লক্ষ্যে পৌঁছনো এবং সেই গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যেই রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতর ৫০০-রও বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।” পাশাপাশি, গবেষণা ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে রাজ্যের তৃতীয় স্থানের স্বীকৃতি অর্জনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
সরকারের তরফে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বার্তা দেওয়া হয়। বিশেষত, বায়োটেকনোলজি-সহ আধুনিক গবেষণার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাংলার মেধাবী গবেষকদের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে গবেষণার অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যও তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞানচর্চায় বাংলা ভাষার গুরুত্বের প্রসঙ্গে কল্যাণ বলেন, “মাতৃভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। আগামী দিনে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান নিয়ে আরও বেশি আলোচনা ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।” এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে ভবিষ্যতে বাংলা ভাষাভিত্তিক বিজ্ঞান উদ্যোগের সূচনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এ দিন উচ্চশিক্ষা নিয়েও মন্তব্য করেন কল্যাণ। তাঁদের দাবি, পূর্ববর্তী সরকার যথাযথ সমীক্ষা ছাড়াই কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছিল। নতুন কমিটি বিষয়গুলি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়।
কল্যাণের অভিযোগ, অতীতে বিজ্ঞানের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিষয় বেশি গুরুত্ব পেত। ফলে পরিকাঠামোর অভাবে বাংলার বহু মেধাবী ছাত্র-গবেষক অন্য রাজ্য বা বিদেশে গবেষণার জন্য চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে চায় এবং গবেষণার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে কোনও যোগ্য গবেষক বা শিক্ষার্থী বঞ্চিত হবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সঙ্গে সরকারের সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা এবং বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের প্রসারের উপর বিশেষ গুরুত্বের কথা তুলে ধরা হল। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজ্ঞানকে মানুষের কল্যাণ এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বক্তারা বলেন, “গবেষণার মাধ্যমে নতুন লক্ষ্যে পৌঁছনো এবং সেই গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যেই রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতর ৫০০-রও বেশি গবেষণা ও উন্নয়ন (জ্উ) প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে।”
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন