মার্কিন সামরিক শীর্ষ পদে নারীদের পদোন্নতি ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের পদগুলোতে নারীদের পদোন্নতির জন্য মনোনয়নের হার গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের একাধিক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার পদোন্নতি আটকে দেওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
প্রতিবেদনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত উচ্চপদে পদোন্নতির জন্য মনোনীত ২০১ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র আটজন নারী। অর্থাৎ মোট মনোনয়নের মাত্র ৪ শতাংশ নারীদের জন্য।
গত ১০ বছরে উচ্চপদে নারীদের মনোনয়নের যে গড় হার ছিল, এটি তার অর্ধেকেরও কম।
তবে চলতি বছর আরও কয়েকজন নারী কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য মনোনীত হতে পারেন।
এ কারণে বছরের শেষ নাগাদ এই হার কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতি বছর উচ্চপদে মনোনীত নারী কর্মকর্তার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় কয়েকজন কর্মকর্তার মনোনয়নেই মোট হার উল্লেখযোগ্যভাবে ওঠানামা করতে পারে।
২০১২ সালেও উচ্চপদে নারী কর্মকর্তাদের মনোনয়নের হার ৫ শতাংশের নিচে নেমেছিল।
তবে হেগসেথ পদোন্নতি আটকে না দিলে ২০২৬ সালে নারী মনোনয়নের হার আরও বেশি হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক কয়েক মাসে হেগসেথ অন্তত ৪০টি উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তার পদোন্নতি সিনেটে পাঠানোর আগে আটকে দিয়েছেন। এসব কর্মকর্তার মধ্যে শ্বেতাঙ্গ পুরুষও রয়েছেন। তবে আটকে দেওয়া পদোন্নতির প্রায় অর্ধেকই নারী ও বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তাদের বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
হেগসেথ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম বছর ২০২৫ সালে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের পদোন্নতির জন্য নারী কর্মকর্তাদের মনোনয়নের হার ছিল রেকর্ড সর্বোচ্চ। এক বছরের ব্যবধানে সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তবে পদোন্নতি আটকে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেননি হেগসেথ। তিনি এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, এসব উদ্যোগ সামরিক বাহিনীর সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে হেগসেথ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যোগ্যতার পরিবর্তে ভুল কারণে অনেক সামরিক নেতাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গভিত্তিক কোটা এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রথম হওয়ার মতো বিষয়কে পদোন্নতির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, বাংলানিউজ