শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ বিএমডিএ চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫২ অপরাহ্ন
টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনার তাগিদ বিএমডিএ চেয়ারম্যানের

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জীবন-জীবিকার জন্য পানির সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান হাসান জাফির তুহিন। তিনি বলেছেন, শুধু সেচের পরিমাণ বাড়ালেই হবে না, কম পানি ব্যবহার করে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পানির উৎস সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।


রোববার (০৯ আগস্ট) নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পরামর্শের ফলাফল যাচাইকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএমডিএ ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন।


হাসান জাফির তুহিন বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জীবন-জীবিকা পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রতিটি ফোঁটার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় কী পরিমাণ পানি ব্যবহার হচ্ছে, পানির উৎস কী এবং ভবিষ্যতে পানির প্রাপ্যতা কেমন হবে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সেচ পরিকল্পনা করতে হবে।


তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে কৃষির উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করা যাবে না। এ জন্য আধুনিক সেচ প্রযুক্তি, পানি সাশ্রয়ী কৃষি পদ্ধতি এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো ও আয় বাড়ানোর বিষয়টিও পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখতে হবে।

বিএমডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি, জলবায়ু, পানির প্রাপ্যতা ও কৃষি ব্যবস্থা অন্য অঞ্চলের চেয়ে ভিন্ন। তাই এ অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। বিদেশি অভিজ্ঞতা ও


পরামর্শের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষক এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো প্রকল্প কাগজে-কলমে সফল হলেই হবে না, এর সুফল সরাসরি কৃষকের মাঠে পৌঁছাতে হবে।


তিনি বলেন, কৃষক যেন কম খরচে পর্যাপ্ত পানি পান, উৎপাদন বাড়াতে পারেন এবং আয় বৃদ্ধি করতে পারেন-প্রকল্পের সাফল্য সেখানেই। পানি ও কৃষিকে ঘিরে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।


কর্মশালায় বরেন্দ্র প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনা, পানি সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং কৃষকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পরামর্শ ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বরেন্দ্র প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাস্তবভিত্তিকভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিএমডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী ও বরেন্দ্র প্রকল্পের ফোকাল পয়েন্ট মো. হারুন-অর-রশিদ। এছাড়াও বক্তব্য দেন বিএমডিএ পরিচালনা বোর্ডের সদস্য শফিকুল আলম সমাপ্ত, অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. আজিজুর রহমান, সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মো. ফরহাদ জামিল, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের নীতিবিষয়ক প্রধান ড. মোহাম্মাদ মোনিরুল হাসান এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. নূর খন্দকার।


কর্মশালে বিএমডিএর কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বীজ ব্যবসায়ী, পাম্প অপারেটর ও কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম।