শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি উদ্বেগজনক

সোনার দেশ ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:১০ অপরাহ্ন
দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি উদ্বেগজনক

এখনই সময় প্রতিকারের পদক্ষেপ নেয়া

বর্তমান সময়ে সড়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন মোটরসাইকেল। যে কোনো ধরনের সড়কেই মোটরসাইকেল ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় একক যানবাহন হিসেবে মোটরসাইকেল এগিয়ে আছে। স্বাভাবিকভাবে হতাহতের সংখ্যাতেও এগিয়ে। এই পরিস্থিতির ক্রমাবনতি হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের জন্য মাথাব্যথারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশন তথ্য দিয়েছে যে, দেশে গত সাড়ে ছয় বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। ৮ আগস্ট সংবাদ মাধ্যমে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। 


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশ মোটরসাইকেল হওয়ায় এবং কিশোর-যুবকদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। একই সঙ্গে গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা, যানজট এবং মোটরসাইকেলের সহজলভ্যতাও এর ব্যবহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।


রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, মোটরসাইকেল চার চাকার যানবাহনের তুলনায় প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।


এই তথ্যই বলে দেয়, দেশে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি উদ্বেগজনক। মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতদের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান খুবই আতঙ্কজনক। কিশোর ও তরুণরাই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৫৮ শতাংশ। এটা শুধুই ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতি নয়- এটি জাতীয় ক্ষতি। এখন সময় এসেছে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার উপায় অনুসন্ধান এবং তা প্রতিকারের জাতীয় দায়িত্ব হিসেবেই সামনে এসেছে। 


মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন খুব কম বয়সে বা কিশোর বয়সে মোটরসাইকেল সহজে হাতে পাওয়া, বন্ধুদের চাপ, কম বয়সের উচ্ছ্বাস, জীবনে প্রথম গাড়ি চালানোর উত্তেজনা, প্রতিযোগিতার মনোভাব, যত খুশি গতি বাড়ানোর সুযোগ ইত্যাদি কারণে মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা হয় বেশি। 


প্রথমত অভিভাবকদের উচিত কিশোর বয়সীদের মোটরসাইকেল ব্যবহার করতে না দেয়া। এছাড়া মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে বের হবার আগে প্রতিবার সব কিছু ঠিকমতো কাজ করছে কিনা তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেয়া দরকার। চেইন, বেল্ট, ব্রেক ও শ্যাফট সবকিছু যথাযথ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে, সব ঠিকমতো কাজ করছে কী না দেখতে হবে। হেলমেট মাথাকে যে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হতে রক্ষা করে। এ ক্ষেত্রে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক বিশেষে মোটর সাইকেলের গতি নির্দিষ্ট করে দেয়া উচিৎ। সিগন্যাল মেনে চলার ক্ষেত্রেও কঠোর মনোভাব দেখাতে হবে। যে কোনো ব্যত্যয়ের জন্য চালককে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। পাশাপাশি সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন চালুর ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।