শুক্রবার, আগস্ট ২১, ২০২৬

এসএসসিতে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উদ্বেগজনক

সোনার দেশ ১১ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন সম্পাদকীয়
সোনার দেশ ১১ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৯ অপরাহ্ন
এসএসসিতে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা উদ্বেগজনক

মানসস্মত শিক্ষক ও শিক্ষার নিশ্চয়তা কবে হবে ?

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল বিপর্যয় হয়েছে বলেই বলা হচ্ছে। ১৯ বছরে নিম্ন ফল এবারই। এবার পরীক্ষায় পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সারা দেশে গড় পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সেই হিসাবে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।


উদ্বিগ্ন হওয়ার বিষয়টি এখানেই থেমে নেই- অকৃতকার্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়তে আছে। দেশের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করেনি। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের সবাই ফেল করেছে। এছাড়া, দেশের ৬৬৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করেছে। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠান থেকে যতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন তারা সবাই পাস করেছে।


প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তাদের মধ্যে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান ৬৬৯টি এবং শতভাগ ফেল করেছে এমন প্রতিষ্ঠান ৩১২টি।


গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে শতভাগ পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৯৮৪টি এবং শতভাগ ফেলের প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি। সেই হিসাবে এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান কমেছে এবং শতভাগ ফেল প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭৮ টি বেড়েছে। পক্ষান্তরে শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ৩১৫ টি। নিঃসন্দেহে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল হতাশাব্যঞ্জক। এই চিত্র শিক্ষার অধঃগামিতাকেও স্পষ্ট করে তোলে। কেন এ বিপর্যয়- তা নিয়ে শিক্ষক-অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। শিক্ষা বোর্ডগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, ইংরেজি ও গণিতে বেশি ফেল করায় এমন ফল বিপর্যয়। এছাড়াও ফল নিম্নগামী হওয়ার কারণ সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতাও হতে পারে। কিংবা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে বিষয়টিকে অন্য কিছু দিয়ে আড়াল করার কোনো সুযোগ নেই। আবার কোনো পক্ষকে দোষারোপ করাও দুর্বলতা ঢাকা যাবে না। বরং এই সুযোগটি অবারিত যে, ফল বিপর্যয়ের তথ্য-অনুসন্ধান করে এর প্রতিকার করা।


এসএসসিতে শতভাগ ফেল বা অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ার মূল কারণ হলো পাঠদানের মানের ঘাটতি, শিক্ষক সঙ্কট, দুর্বল প্রশাসনিক তদারকি এবং পরীক্ষা মূল্যায়ন ও তদারকিতে কড়াকড়ি। এছাড়া করোনা মহামারী-পরবর্তী সময়ে শিখন ঘাটতি এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া এই নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এসএসসিতে শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমাতে হলে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত মনিটরিং এবং বিশেষ প্রতিকারমূলক পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। অনগ্রসর অঞ্চলে প্রশাসনিক তদারকি বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি।