শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

সৌদির সোফা কারখানার আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল নওগাঁ-নাটোরের ১১ জনের

নওগাঁ প্রতিনিধি ১০ আগস্ট ২০২৬ ০১:৩০ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নওগাঁ প্রতিনিধি ১০ আগস্ট ২০২৬ ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
সৌদির সোফা কারখানার আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল নওগাঁ-নাটোরের ১১ জনের

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় আগুনে দগ্ধ হয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের স্বজনদের বরাতে ওই দুর্ঘটনায় মোট ১৭ জনের মৃত্যর এসেছে।


এদিকে ওই সোফা কারখানায় নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দা থাকার খবর দিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।


রোববার রাতে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এর মধ্যে উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের চারজন, বিষা গ্রামের দুজন এবং পারকাসুন্দা গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।


তিনি বলেন, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।


নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেন তিনি।


প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।


নলডাঙ্গার তিনজন নিহত


অপরদিকে ওই সোফা কারখানায় লাগা আগুনে নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গার খাজুরা এলাকার তিন বাসিন্দা থাকার তথ্য দিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন।


নিহতদের স্বজনদের বরাতে তিনি এ খবর দেন।


নিহতরা হলেন- নলডাঙ্গার খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।


নিহতের স্বজনদের বরাতে খাজুরা ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, সৌদি আরব সময় দুপুর ২টার দিকে সোফা কারখানায় সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের একজন চুল কাটাতে বাইরে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে এসে আগুন দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও প্রশাসনে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের পরে ১৭ জনের মরদেহ শোয়া অবস্থায় উদ্ধার করে।


ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, “একসাথে এতগুলো প্রবাসী ভাইয়ের চিরতরে হারিয়ে যাওয়া খুবই শোকের বেদনার।”