শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ভাগ্য ফেরাতে গিয়েছিল সৌদি আরব : আগুনে নিভে গেল তিন যুবকের প্রাণ

নাটোর প্রতিনিধি ১০ আগস্ট ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ১০ আগস্ট ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ন
ভাগ্য ফেরাতে গিয়েছিল সৌদি আরব : আগুনে নিভে গেল তিন যুবকের প্রাণ

সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের শামীম হোসেন, সাব্বির হোসেন শুভ ও রবিউল আউয়াল হৃদয়। গত রোববার সৌদি আরবের রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় কর্মরত অবস্থায় আগুনে পুড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাদের শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।


এই ঘটনায় শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ এড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।


জানা যায়, ৮ মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে মো. জাকির হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে বন্ধক রাখেন জমি। বিয়ের চার বছরেও সন্তান না হওয়ায় অনেক ডাক্তার ও কবিরাজ দেখিয়েছেন। অনেক চেষ্টার পর স্ত্রী গর্ভবতী হন। গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে প্রবাস জীবনে যান শামীম। তাদের সংসারে ১ মাস বয়সি এক কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। সন্তান হওয়ার খুশিতে আনন্দে দিন কাটছিল প্রবাসী শামীমের। সৌদি আরব থেকে ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন আর প্রহর গুনতেন কবে দেশে ফিরে কোলে নিয়ে সন্তানকে আদর করবেন। কিন্ত ভাগ্যের নির্মল পরিহার সেই স্বপ্ন তার পূরণ হলো না শামীমের।


একই উপজেলার খাজুরা ইউনিয়ন শ্রীপুরপাড়া গ্রামের রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন শুভ। নিচের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে প্রায় ৪ বছর আগে ৬ রাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে যান সাব্বির। সংসারে বাবা-মা ও স্ত্রী রয়েছে। ঋণের টাকা কিছু পরিশোধ হলেও বাঁকী রয়েছে। ছোট বোনের বিয়ের কথা চলছিল। ছোট বোনের বিয়ে সম্পন্ন ও বাড়িঘর টাকা নিয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল সাব্বিরের। কিন্তু সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল।


মহিষডাঙ্গা এলাকার প্রবাসী রবিউল আউয়াল হৃদয়। ভাগ্য পরিবর্তনে করতে ৩ বছর আগে প্রবাসী বড় ভাইয়ের কাছে সৌদি আরবে যান তিনি। রবিউলের ভিসা, পাসপোর্ট থাকলেও ছিল না আকামা। ফলে লুকিয়ে লুকিয়ে


সৌদি আরবে কাজ করতেন তিনি। কিছুদিন পর দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু দেশে ফেরবেন ঠিকই, তবে কফিনে মোড়ানো বাক্সে।


নিহতের মা শাহীনুর বেগম কান্নাকন্ঠে বলেন, সরকারের কাছে আবেদন, আমার সন্তানের লাশটা আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান বিদেশে গিয়েছিল। দেশে এসে মেয়ের মুখ দেখবে, আদর করবে, সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। আমার এক মাস বয়সি নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটা দেখতে পেল না। সরকার যেন আমার এতিম নাতনির ভবিষতের জন্য কিছু করে দেয়।


এ বিষয় নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)  আল ইমরান খান জানান, ঘটনাটি জানার পরই জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে সমাবেদনা জানিয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সার্বিক সহয়োগিতা করা যায় তা করা হবে।


অপরদিকে  নলডাঙ্গার তিন প্রবাসীর মৃত্যুতেশোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং গভীর শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের সরকার দলীয় হুইপ এড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।


ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সরকারি এবং ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন তিনি। একই সাথে মরদেহগুলো দ্রুততম সময়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও আশ্বাস দেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। বর্তমানে জনাব দুলু ইতালির রোমে অবস্থান করছেন।