চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিচারকের খাস কামরা ও এজলাস ভাঙচুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এমপি বুলবুল
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদালতের বিচারকের খাস কামরা ও এজলাসে স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী কর্তৃক ভাঙচুরের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ১১ টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা দায়রা জজ আদালত-২ এর ভবন পরিদর্শন করেন তিনি। এই সময় তিনি স্টাফদের খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট বিচারকের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, পরিদর্শনে এসে স্টাফদের সাথে কথা বলেছি এবং ক্ষত চিহ্নগুলো দেখেছি। এখানে এজলাসে ভাঙচুর করা হয়েছে, কাঁচগুলো ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। জেলা জজ এর খাস কামরাও ভাঙচুর করা হয়েছে এবং তার উপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে।
এমনকি এখানে চাকরিরত স্টাফদের উপরেও হামলা করা হয়েছে। এটি আসলে একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। এই ধরনের হামলা স্বাধীন বিচার ব্যাবস্থার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ এবং স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। যদি এই ধরনের ঘটনার সঠিক বিচার না হয় এবং তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, বিচারকের এজলাসে, খাসকামরায় হামলা পরিচালনা করা আসলেই নজিরবিহীন। এ ধরনের আচরণ ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি এবং ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি। তাই সরকারের এই ব্যাপারে আরোও সজাগ হওয়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
এদিকে ঘটনাস্থলে এমপি নুরুল ইসলাম বুলবুলকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন সংশ্লিষ্ট আদালতের স্টাফরা। এই সময় প্রেসকার রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা তাদেরকে আকুতি মিনতি করে বলেছি আমরা আপনাদের জেলার লোক। এভাবে হামলা করিয়েন না। তবুও তারা শুনে নি। আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। আমরা ভয়ে দিন পার করছি। আজকে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়?
এই সময় নুরুল ইসলাম বুলবুল সুষ্ঠু বিচার ও তদন্তের আশ্বস্ত করেন এবং যেকোন প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
এই সময় আরোও উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ আব্দুল আলীম, এ্যাড মাশির আলী, এ্যাড নূরে আলম সিদ্দিকি আসাদ, এ্যাড শফিক এনায়েতুল্লাহ, এ্যাড গোলাম মোস্তফাসহ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন শুনানির সময় আদালতে বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় আদালতের আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাই কষ্টে আছেন বলে মন্তব্য করেন বিচারক। এমতাবস্থায় বিচারককে নিয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করে এজলাস কক্ষে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে বিচারক এজলাস ছেড়ে খাস কামরায় চলে যান। পরে আদালতের এজলাসে ঢুকে সরঞ্জামাদি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।