বাজারে পর্যাপ্ত নিত্যপণ্য, দাম চড়া
বাজারে সব পণ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। তার পরও সুখবর নেই। বরং সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। কমেনি সোনালি মুরগি ও ডিমের দাম। মাছের দামও বাড়তি। তবে কাঁচা মরিচের দাম কিছুটা কমে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় নেমেছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নগরীর সাহেববাজার, ভদ্রা, শালবাগান ও সাগরপাড়া ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে এখনও পেঁপে বাদে কোন সবজি কম দামে মিলছে না।
বাজারে ফার্মের মুরগি কমে যাচ্ছে। ফলে সরবরাহ কমায় দামও বাড়ছে। আগের সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও ১০ টাকা বেড়েছে ব্রয়লারের দাম। ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার ব্রয়লার ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায় বিভিন্ন বাজারে।
সাহেববাজারের মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, লোডশেডিংয়ের প্রভাবে মুরগির সরবরাহও কমে গেছে। এ জন্য দাম বাড়ছে। ব্রয়লারের কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। তবে সোনালি আগের মতোই ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ ও খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
এদিকে সবজির দাম বাড়তি থাকায় ডিমের চাহিদাও বাড়তি। এ জন্য দাম কমছে না। বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। সাদা মুরগির ডিম ৪৪ টাকা, লাল ডিম ৪৮, দেশি মুরগি ৭৫ ও হাঁসের ৮০ টাকা হালি বিক্রি করতে দেখা গেছে।
সবজি ও মুরগির মতো মাছও চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা যায়। ইলিশ মাছের ভরা মৌসুম চলছে। তার পরও চড়া দাম। এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। আর ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। তেলাপিয়া মাছও আকারভেদে ২২০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। রুই, কাতল মাছও ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি, কাচকি ৫০০ থেকে ৭০০, চিংড়ি, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়।
আমদানি বেশি হওয়ায় এ সপ্তাহে দাম কমেছে। বিভিন্ন বাজারে তা ১৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। করলা, পটোল ও ঢ্যাঁড়সের দাম ২০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা, ধুন্দুল ৮০ থেকে ১০০ কেজি, কাঁচা পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে বেগুনের দাম এখনো চড়া। তা ১০০ থেকে ১৫০ টাকার কমে মেলে না। অন্য সবজির মধ্যে শসা ৬০ থেকে ১০০, কচুর লতি ১২০, গাজর ৮০ থেকে ১০০, টমেটো ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত জুলাই মাসের শেষে বিভিন্ন বাজারে স্কয়ার গ্রুপের চাষী ব্র্যান্ড, আকিজ, প্রাণসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা এবং বস্তার খোলা চাল ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গতকালও চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। অন্য চালও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে মিনিকেট ৬৫ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ ও মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হয়।
এ ছাড়া পেঁয়াজ ৬০ টাকা, আদা ১৭০ থেকে ১৮০, দেশি রসুন ১০০, চায়না রসুন ১৪০ থেকে ১৮০ এবং আলু ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।