বাগমারায় বিলে মাছ চাষ নিয়ে বাড়িঘরে হামলা-লুটপাট ও ভাঙচুর!

বাগমারা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাগমারায় বিলে মৎস্য চাষ নিয়ে দ্বন্দ্বে দফায় দফায় বাড়ি-ঘরে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের সাইধাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ টি বাড়ি-ঘরে হামলা চালানো হয়।
জানা গেছে, উপজেলার নরদাশ ইউনিয়নের নরদাশ গ্রাম সংলগ্ন যশোবিলে লিজ নিয়ে মৎস্য চাষ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। এক সময় বিলটি আ’লীগের নেতা গোলাম সারোয়ার আবুলের নেতৃত্বে মাছ চাষ হতো। গত বছর ৫ আগস্ট আ’লীগ সরকারের পতনের পর বিলটি স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জুলফিকার রহমান বাচ্চু, মোশারফ হোসেন, আজিজুর রহমান, আব্দুল জব্বারসহ কয়েকজন নেতার ছত্রছয়ায় লিজ নেয়ার নামে মাছ চাষ করে। বিলটিতে মাছ চাষ করে নিজেরা ভোগ করলেও বিলের জমির মালিকদের কোন সুবিধা না দেয়ার অভিযোগ ওঠে। ফলে দীর্ঘ দিন ধরে জমির মালিকদের পক্ষে সাইধাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুশীল চন্দ্র দেবনাথ, আব্দুল জব্বার, আব্দুল মান্নান বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। তারা জানান, দখলকৃতরা জমির মালিকদের টাকা-পয়সা দেয়ার কথা বললেও নানা ভাবে টালবাহানা, হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
সর্বশেষ জমির মালিকরা জমিজমার লিজের টাকা চাইলে তারা সুপরিকল্পিত ভাবে বহিরাগত এবং গ্রামের কয়েকজন চিহ্নিত দুষ্কৃতকারী বাড়ি-ঘরে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে। হামলার সময় বৈদ্যুতিক মিটার, বিশুদ্ধ পানির মোটর, আলু খেত, দরজা-জানালা, বসতবাড়ির প্রাচীর, টিনের চালা ভাঙচুর করে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট বিলের জমির মালিকরা।
স্থানীয়রা জানায়, এ হামলায় অন্যদের সাথে যোগ দেয় গ্রামের সেফাতুল্লার পুত্র আজিজুর রহমান, সোলাইমানের পুত্র আব্দুল জব্বার সেকেন আলী, লেকেন আলী, মোজাহার আলী, মোজাফফর হোসেন,আব্দুর রাজ্জাক এবং কয়েকজন বহিরাগত সহ হামলা, লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে। এ হামলায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে নরদাশ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, আমি অসুস্থ ঘটনা সমন্ধে আমি কিছু জানি না। ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রহমান বাচ্চু সংবাদ কর্মীদের বলেন, বিলে আমার কোন অংশ নেই, এঘটনাটি আওয়ামী লীগ নেতা জাফরের নেতৃত্বে হয়েছে। উভয় নেতা বিলে তাদের শেয়ার নেই বলে দাবী করেন।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, ঘটনা সমন্ধে অবগত আছি। ঘটনার পর পরই হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।