শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়াতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৪৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৬ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়াতে হবে: ভূমিমন্ত্রী

মাছের গুণগত মান ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করেই বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেছেন, ‘মৎস্য সম্পদ বাংলাদেশের রূপালি সম্পদ। মাছের খাদ্যের (ফিড) মান বজায় রাখতে হবে। অসাধু উপায়ে তৈরি বা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর উপাদানে তৈরি ফিশ ফিড ব্যবহার থেকে মৎস্য চাষিদের বিরত থাকতে হবে।’ বিশেষ করে চিংড়ির মতো মূল্যবান মৎস্যসম্পদ যাতে বিদেশের বাজারে ভাবমূর্তি না হারায়, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে ভূমিমন্ত্রী মিনু বলেন, ‘একসময় মাছ ছিল আমার নির্বাচনী প্রতীক এবং আমি সবসময়ই সাধারণ মৎস্যজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে তাদের হৃদয়ের ভাষা বোঝার চেষ্টা করি।’ ভূমিমন্ত্রী মিনু বলেন, ‘রাজশাহীর জীবিত মাছকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দিতে রাজশাহী থেকে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে সরাসরি মাছ রপ্তানির জন্য কার্গো বিমান চলাচল এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ রাজশাহীতে দ্রুত একটি অত্যাধুনিক মৎস্য টেস্টিং ল্যাব স্থাপনের কথাও জানান তিনি।


তিনি বলেন, ‘মিঠা পানিই হবে ভবিষ্যতের বড় শক্তি এবং বাংলাদেশ এই সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ।’ ২০২৭ সালের মধ্যে পদ্মা নদীর ওপর বাঁধ নির্মাণ এবং বরনাই নদীতে চাইনিজ রাবার ড্যাম তৈরির মাধ্যমে সারা বছর পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হবে। এতে মৎস্য চাষে বিপ্লব ঘটবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। মৎস্য চাষে রাজশাহীর মৎস্যচাষি গোলাম সাকলায়েনকে মডেল হিসেবে উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মকে কৃষিকাজ ও মাছ চাষের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণরা এই খাতে যোগ দিলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বে এক নম্বর স্থানে পৌঁছাতে পারবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজশাহী জেলায় বছরে ১ লাখ ১২ হাজার ৪১০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়। এর বিপরীতে জেলার বার্ষিক চাহিদা ৬৬ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন। ফলে প্রায় ৪৬ হাজার ২০২ মেট্রিক টন মাছ উদ্বৃত্ত থাকে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭০টি ট্রাকে জীবিত মাছ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। ‘রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ১৮ আগস্ট এ পক্ষ শেষ হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং মৎস্য অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের পরিচালক সাইফুদ্দিন ইয়াহিয়া।


স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। বক্তব্য দেন মৎস্যচাষি গোলাম সাকলায়েন ও শ্রী বিমল হালদার। এর আগে কালেক্টরেট পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী। আলোচনা সভা শেষে সাতজন মৎস্যচাষি ও একজন মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কর্মচারীকে পুরস্কৃত করা হয়।#


পলাশ