শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বগুড়ার সীমান্তবর্তী ‘জহরের ঘাটে’ সেতু নির্মাণ হলেই কমবে জন ভোগান্তি

বগুড়া প্রতিনিধি: ২২ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বগুড়া প্রতিনিধি: ২২ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
বগুড়ার সীমান্তবর্তী ‘জহরের ঘাটে’ সেতু নির্মাণ হলেই কমবে জন ভোগান্তি

দুই জেলার সীমানার মধ্যে দিয়ে চলে গেছে ২০০ মিটারের একটি খাল। এ খাল দিয়ে প্রতিদিন পার হতে হয় হাজার হাজার মানুষে। সে থেকেই পরিচিত হয়েছে ‘জহরের ঘাট’ নামে। বহু বছর আগে সড়ক ভেঙে তৈরি হওয়া এই খালে একমাত্র পারাপারের মাধ্যম একটি খেয়া নৌকা। সেটিও নড়বড়ে। তাইতো এ খাল যেন এখন দুর্ভোগ আর আতঙ্কের আরেক নাম। আর এ খালটি বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নদীভাঙনকবলিত বোহাইল ও কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ও জামালপুরের মাদারগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায়।


ভৌগোলিক বাস্তবতায় যমুনা নদী অতিক্রম করে সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরে যাওয়া এদের জন্য কঠিন। তাই প্রতিদিনের বাজারঘাট, কেনাকাটা কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে এই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা পাশের জেলা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা। এমতাবস্থায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব করতে সেখানে দ্রুত একটি সাঁকো বা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা।


উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের উত্তর শংকরপুর গ্রামের প্রায় পয়ষট্টি বছর বয়সী জাহেদা বেগম ঘাটে বসে বিলাপ করছেন। কারণ জানতে চাইলে “ তিনি নৌকা পারাপারের সময় পানিতে পরে গিয়েছিলেন। পানিতে তার হাতের বালা এবং নাকের নোলক হারিয়ে গেছে।” বর্তমানে তিনি বাড়িতে একা থাকেন। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। হাতের বালাগুলো তিনি বিয়ের সময় পেয়েছেন।


একটি বিয়ের দাওয়াতে যাওয়ার জন্য তিনি তার পুরাতন স্বর্ণের জিনিসগুলো চকচকে করতে এবং সংসারের কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে মাদারগঞ্জ গিয়েছিলেন। ফেরার পথে খাল পার হয়ে নৌকা থেকে নামার সময় তিনি পানিতে পরে যান। এবং স্বর্ণের জিনিসগুলো হারিয়ে ফেলেন।


তাছাড়া উপজেলার বোহাইল এবং কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা যমুনা নদীর কারণে সারিয়াকান্দি উপজেলা সদরে যাতায়াতে অভ্যস্ত না। তারা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে মাদারগঞ্জ যাতায়াত করেন। আর মাদারগঞ্জ যাতায়াতে একমাত্র সড়ক ভেঙে গিয়ে বহু বছর আগে সেখানে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকবছর ধরেই সেখানে এলাকাবাসী খেয়া নৌকায় যাতায়াত করেন। ফলে এটি এখন ‘জহরের ঘাট’ নামে বেশ পরিচিত পেয়েছে।


কখনো তারা নৌকা থেকে পরে গিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হারাচ্ছেন, কখনও মোটরসাইকেল পরে গিয়ে মানুষ আহত হচ্ছে, কখনো কলেজ পরুয়া শিক্ষার্থীরা পানিতে পরে তাদের জামাকাপড় নষ্ট করছেন, কখনো এ নৌঘাট পার হওয়ার ভয়ে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকছেন, কখনো কৃষকদের সার বীজ এবং কীটনাশক পানিতে পরে নষ্ট হচ্ছে। এমতাবস্থায় সরকার কাছে ২০০ মিটার এলাকার খালের উপর একটি সেতু বা সাঁকোর দাবি জানিয়েছেন সারিয়াকান্দির দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা।


কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা আহসান হাবীব শেখ বলেন, জহরের ঘাট দিয়ে প্রতিদিন সারিয়াকান্দি উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এবং শতশত মোটরসাইকেল নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়ে মাদারগঞ্জ যাতায়াত করছেন। জামালপুরের মাদারগঞ্জের সীমানায় হওয়ায় আধুনিক যুগেও সেখানে কোনও সেতু বা সাঁকো নির্মাণ হয়নি। সীমান্ত এলাকায় বসবাস করার কারণে আমরা খুবই অবহেলিত। তাই জহরের ঘাটে একটি সাঁকো বা সেতু নির্মাণ করা জরুরী।


এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জের কাইজার চরের পাশে সারিয়াকান্দি উপজেলার সীমানা ঘেঁষা একটি খালে দীর্ঘদিন ধরেই সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল এবং কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়ে যাতায়াত করছেন বলে অবগত হয়েছি।


তাই যেহেতু যমুনা নদীর কারণে এসব এলাকার লোকজন তাদের নিত্য পণ্যের জন্য মাদারগঞ্জ উপজেলায় যাতায়াত করছেন। সেহেতু এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে সেখানে একটি সাঁকো বা সেতু নির্মাণের জন্য জামালপুর জেলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে।