মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

‘বাস লাভার ট্যুর’: বাউলিতে সেই বাসের নিচে পড়ল তরুণ, লাশ ফেলে পালাল বন্ধুরা

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৪ অপরাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:১৪ অপরাহ্ন
‘বাস লাভার ট্যুর’: বাউলিতে সেই বাসের নিচে পড়ল তরুণ, লাশ ফেলে পালাল বন্ধুরা
নিহত ধ্রুবজিৎ রায় আপন।

বন্ধুদের সঙ্গে বাস ভাড়া করে ঘুরতে গিয়ে সেটির নিচেই চাপা পড়ে প্রাণ গেছে এক তরুণের। পুলিশ বলছে, চলন্ত অবস্থায় বাস চালক ‘বাউলি’ দিলে বাহনটির দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা ওই তরুণ রাস্তায় পড়ে চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান।


ওই তরুণের লাশ সেখানে ফেলেই বাসসহ পালিয়ে যায় তার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া বন্ধুরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসকের ফৌজদারহাটে সি-সাইড ফিলিং স্টেশনের কাছে গত রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে তথ্য হাইওয়ে পুলিশের।


পুলিশের তথ্যানুযায়ী, নিহত ধ্রুবজিৎ রায় আপন (২৬) এর বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। তিনি বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডায়নামিক টিউটেরিয়াল হোম নামে একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই কোচিং সেন্টার থেকে জানানো হয়, পড়ানোর পাশাপাশি আপন ড্যাফোডিল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা পড়ছিলেন। তার বাবা বিজয় রায় পোশাক কারখানার সাবেক কর্মকর্তা আর মা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক।


‘বাংলাদেশ বাস স্পটার’ নামে একটি ‘বাসপ্রেমি’ দলের সঙ্গে সফরে গিয়ে প্রাণ হারান আপন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক এসব কথিত ‘বাস লাভার’ গ্রুপ নিয়মিতভাবে বাস ভাড়া করে লম্বা সফরের আয়োজন করে থাকে।


অভিযোগ আছে, এসব ‘বাসপ্রেমি’ গ্রুপের পুরো সফর জুড়ে চলে বেপরোয়া বাস চালনা, অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। এসবের সঙ্গে যুক্ত বাস চালকরাও এই ধরণের গ্রুপগুলোতে অনেকটা ‘সেলিব্রেটি’। এ নিয়ে প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। মূলত এসব দৃশ্য ধারণের আগ্রহ থেকেই ‘ভিউ পেতে’ এ ধরনের ট্যুরের আয়োজন করে গ্রুপগুলো।


এরইমধ্যে বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা বাংলাদেশে এসে ‘বাসের এই বিপজ্জনক যাত্রা’ নিয়ে কনটেন্ট ও ডকুমেন্টরিও বানিয়েছে।


পুলিশ বলছে, শ্যামলী পরিবহনের যে বাসটি থেকে আপন পড়ে যান, সেটি চালাচ্ছিলেন কোয়েল নামে একজন চালক। ফেইসবুকে যার আইডির নাম ‘অস্থির কোয়েল’। নিজের আইডি ও বিভিন্ন গ্রুপেও তিনি নিয়মিত তীব্র গতিতে বাস চালনার ভিডিও আপলোড করেন। তবে পুলিশ এখনো কোয়েলকে গ্রেপ্তার বা তার বাসটিকে আটক করতে পারেনি।


আপনের মৃত্যুর ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ বলছে, ‘বাংলাদেশ বাস স্পটার’ নামে কথিত বাসপ্রেমি গ্রুপটি গত ২০ অগাস্ট শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস ভাড়া করে কক্সবাজার যায়। রোববার ভোরে ঢাকায় ফেরার পথে ফৌজদারহাট সি-সাইড ফিলিং স্টেশনে বিরতি নিয়ে মহাসড়কে ওঠার পরই বাসটি হঠাৎ মোড় নিলে, দরজায় দাঁড়ানো আপন ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পরে চাকায় পিস্ট হন।


হাইওয়ে পুলিশের বারো আউলিয়া থানার ওসি আরিফুল আমিন বলেন, “ফিলিং স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বাসটি ফিলিং স্টেশন থেকে বের হওয়ার সময় পেছনে গিয়ে সেটিকে সিগন্যাল দিচ্ছিলেন আপন। এরপর বাসটি সোজা হলে তিনি দৌড়ে গিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ান। বাসটি হাইওয়েতে উঠে পাম্প পার হওয়া মাত্রই একটা বাউলি মারল। ওই সময় ছেলেটা পড়ে গেল কীভাবে, সেটা আর ক্যামেরায় দেখা যায়নি। ওই গাড়ির চাকার তলে পরেই সম্ভবত ছেলেটা মারা গেছে।


“ওরা একটা গ্রুপে আসছিল, সবাই মনে হয় একে অন্যকে চিনত। ছেলেটাকে দেখা গেল, বাসের হেলপারের দায়িত্ব পালন করতে। সেই ছেলেটা বাস থেকে পড়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গী-সাথিরা লাশটাও তুলতে আসল না। পরে ওর বাবা-মা এসেছিল। তারা খুবই ভেঙে পড়েছেন। নিহত আপন তাদের একমাত্র সন্তান ছিল।”

এই ঘটনায় একটি দুর্ঘটনা মামলা হলেও পুলিশ বাস বা এর চালককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বলে তথ্য দেন ওসি।


তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ