বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

সোনার দেশ ডেস্ক ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:৫৬ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:৫৬ অপরাহ্ন
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

লাতিন দেশ ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তেল নিয়ে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রগুলো সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করবে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন তেলক্ষেত্রে মজুত থাকা ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের ওপর খবরদারির সুযোগ পাব যুক্তরাষ্ট্র । শুক্রবার (২৮ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এসব তথ্য জানিয়েছেন।


‘ডনরো ডকট্রিন’ কী?

ট্রাম্পের এই ভেনেজুয়েলা নীতিকে বৃহত্তর পররাষ্ট্রনীতির প্রেক্ষাপটে ‘ডনরো ডকট্রিন’ (Donroe Doctrine)-এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। শব্দটি Donald Trump ও ঐতিহাসিক Monroe Doctrine—GB এই দুই নামের সমন্বয়ে তৈরি।

১৮২৩ সালে ২ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট জেমস মনরোর ঘোষিত ‘মনরো ডকট্রিন’ (Monroe Doctrine)-এর মূল ধারণা ছিল, ইউরোপীয় শক্তিগুলো যেন আমেরিকা মহাদেশে নতুন করে হস্তক্ষেপ বা উপনিবেশ স্থাপন না করে।

ট্রাম্পের ক্ষেত্রে ÔDonroe Doctrine’ বলতে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা, কৌশলগত প্রভাব এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য আরও শক্তিশালী করার নীতিকে বোঝানো হচ্ছে।


চুক্তি নিয়ে যা জানা দরকার

এই নজিরবিহীন চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পশ্চিম গোলার্ধে (লাতিন আমেরিকা) দেশটির জ্বালানি-প্রভাব ও আধিপত্যকে ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে। তবে, চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। বিষয়টির সঙ্গে সংযুক্ত একটি সূত্র অ্যাক্সিওস-কে জানিয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র, বেসরকারি কোম্পানি এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে এক ধরনের ‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব’ (public-private partnership)।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি কোনো ক্রয় নয়। তারা আমাদের ইকুইটি বা মালিকানার অংশ দিচ্ছে। এটি এমন এক ধরনের করপোরেট লেনদেন, যেখানে কোম্পানিগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানার অংশ থাকবে।

ওই সূত্রের মতে, যুক্তরাষ্ট্র তথাকথিত ‘অফ-টেক অয়েল’ (off-take oil) পাওয়ার সুযোগও পাবে। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত তেল (crude oil) নিশ্চিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র পাবে এবং তা উৎপাদন খরচের বিনিময়ে সরবরাহ করা হবে।

ট্রাম্প তার Truth Social অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তিতে প্রবেশ করেছে!

এই চুক্তির জন্য ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেসের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি এই চুক্তিকে ‘আমেরিকান ও ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য একটি বিশাল বিজয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

রুবিও বলেছেন, ‘এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে, হাজার হাজার উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।’

এই বিশেষ ধরনের চুক্তির তদারকি করবে পেন্টাগনের Office of Strategic Capital। এই দপ্তর এমন সব উদ্যোগে অর্থায়নে সহায়তা করে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাকে এগিয়ে নিতে পারে।


চুক্তি কি সত্যিই চূড়ান্ত?

এখনো এ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে আরেকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।

অ্যাক্সিওসকে ওই দ্বিতীয় সূত্র বলেছেন, ‘এটি ঘটবেই। এখন শুধু প্রশ্ন হলো-কখন।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকে ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এরপর ৫ জানুয়ারি তাদের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টে হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অধীনে ডেলসি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


তথ্যসূত্র: জাগোনিউজ