২৬ তারিখ কি অপয়া? কেন সব বিপর্যয় ২৬-এই?
ক্যালেন্ডারের আর পাঁচটা দিনের মতোই ২৬ তারিখ। কিন্তু একের পর এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সঙ্গে এই তারিখের যোগসূত্র সামনে আসতেই নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। ভূমিকম্প, বন্যা, সুনামি থেকে সন্ত্রাসবাদী হামলা—বিভিন্ন বছরের একাধিক মর্মান্তিক ঘটনার তারিখ ২৬ হওয়ায় নেটদুনিয়ার একাংশের প্রশ্ন, ‘২৬ কি সত্যিই অশুভ?’
চলতি বছরের ২৬ আগস্ট নেপালে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা সামনে আসার পরই এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে একাধিক পোস্ট। সেখানে ২৬ তারিখে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিপর্যয়ের তালিকা তুলে ধরে কেউ কেউ দাবি করছেন, এই তারিখে যেন বারবার নেমে এসেছে দুর্যোগ।
কোন কোন ঘটনার সঙ্গে জড়িয়েছে ২৬ তারিখ?
ভাইরাল পোস্টগুলিতে প্রথমেই উঠে আসছে ২০০১ সালের ২৬ জানুয়ারির গুজরাট ভূমিকম্পের কথা। এরপর রয়েছে ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরের ভয়াবহ সুনামি, যা বহু দেশের মানুষের জীবন ও সম্পূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলকে বিপর্যস্ত করেছিল।
২০০৫ সালের ২৬ জুলাই মুম্বইয়ের ভয়াবহ বন্যা এবং ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ের ২৬/১১ জঙ্গি হামলাও এই তালিকায় রয়েছে।
এখানেই শেষ নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৮ সালের আহমেদাবাদ বিস্ফোরণ, ২০০৭ সালের গুয়াহাটি বিস্ফোরণ এবং ২০০৩ সালের ইরানের বাম ভূমিকম্পের কথাও।
বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা চেরনোবিল বিপর্যয়ও ঘটেছিল ১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল।
এবার সেই তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে ২০২৬ সালের ২৬ অগস্ট নেপালের ভয়াবহ বন্যা।
২৬ আগস্ট ২০২৬ তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় হিমবাহ ধসের পর বিপুল পরিমাণ জল ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে ভাইরাল পোস্টগুলিতে দাবি করা হয়েছে। দুর্গম হিমালয় অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। কৈলাস-মানস সরোবরের দিকে যাতায়াতের পথ হিসেবেও এই অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন এই বিপর্যয়ের পরই পুরনো ঘটনাগুলির সঙ্গে ২৬ আগস্টের ঘটনাকে মিলিয়ে দেখতে শুরু করেন নেটিজেনরা। একজন মজা করে লিখেছেন, ‘২৫ তারিখের পর সরাসরি ২৭ তারিখ করা উচিত, ক্যালেন্ডার থেকে ২৬-কে বাদ দেওয়া হোক।’
আর একজন লিখেছেন, ২৬ সংখ্যাটির মধ্যে যেন কিছু একটা রয়েছে এবং বহু বিপর্যয় এই তারিখে ঘটেছে।
আবার অনেকে এই বিষয়টিকে নিছক কাকতালীয় বলেও মনে করছেন। কারণ, একটি নির্দিষ্ট তারিখে কয়েকটি বড় ঘটনা ঘটে গেলেই তার সঙ্গে কোনও অলৌকিক বা বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।
মজার বিষয়, এই আলোচনায় আপত্তিও জানিয়েছেন অনেকে। একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এমন বলবেন না, ২৬ তারিখেই আমার জন্মদিন।’
সত্যিই কি ২৬ অশুভ?
এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই পুরো আলোচনা একাধিক ভয়াবহ ঘটনা একই তারিখে ঘটেছে-এটা সত্যি হতে পারে। কিন্তু তার ভিত্তিতে ২৬ তারিখকে ‘অশুভ’ বা বিপর্যয়ের জন্য বিশেষ কোনও দিন হিসেবে চিহ্নিত করার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের পিছনে থাকে ভূতাত্ত্বিক, আবহাওয়াগত এবং পরিবেশগত নানা কারণ। আর সন্ত্রাসবাদী হামলার মতো ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের মানবসৃষ্ট পরিস্থিতির ফল। তাই ২৬ তারিখ ঘিরে তৈরি হওয়া এই কৌতূহল আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ার একটি ভাইরাল প্যাটার্ন, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন