ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে রাবিতে বিক্ষোভ, আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদেও প্রতি হুশিয়ারি

রাবি প্রতিবেদক:
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে ফের বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুম্মার নামাজ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়।
মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘আয় মোদী দেখে যা, রাজপথে তোর বাপেরা’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে রাকসু’র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মার আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখার হুঁশিয়ারি দেন।
আম্মার বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগপন্থী কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী রবিবার থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। তাদেরকে কলার ধরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখবো। আওয়ামী লীগ প্রশ্নে আর কোনো নমনীয়তা দেখানো হবে না।
তিনি আরও বলেন, হাদি ভাইয়ের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কিন্তু আমরা লক্ষ করছি, কিছু রাজনৈতিক দল হাদি ভাইয়ের লাশ নিয়ে রাজনীতি করছে। আমরা চাই, সবাই এক হোক এই প্রশ্নে। হাদির খুনিদের দেশে ফেরত না পাঠালে ভারতের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।
রাকসু’র সহ-সভাপতি (ভিপি) ও শাখা শিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, হাদিকে নয়, বাংলাদেশের বুকে গুলি করা হয়েছে। ইনসাফের পক্ষে লড়াই থেমে যাবে এমনটা যারা ভাবছে তারা ভুল করছে। আমরা সারা দেশে লক্ষ হাদিতে পরিণত হবো। জুলাইয়ের পর হাদিরা মরে না।
রাকসু’র সহকারী সাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বিরের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শহীদ হবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহমেদ ফারহান, রাকসুর সহকারী সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম এবং মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুজাহিদ ইসলাম।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিনোদপুর গেট হয়ে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে গিয়ে সমবেত হয়।
পরে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। একপর্যায়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভেঙে সেখানে পাবলিক টয়লেট করার ঘোষণা দেন। পরে বুলডোজার দিয়ে কার্যালয়টি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি মৃত্যুবরণ করেন।