মাহফিলে মুসল্লিদের হামলায় বক্তাসহ আহত ১০, মঞ্চ-মাইক ভাঙচুর
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :
রাজশাহীর বাঘায় তাফসিরুল কুরআন মাহফিল চলাকালে প্রধান বক্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ মুসুল্লিরা ভাঙচুর করেন জলসা মঞ্চ। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলা সদরের ঈদগাহ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক জানিয়েছেন, তাফসির মাহফিলের বক্তা মাজার নিয়ে বয়ান করছিলেন। এ সময় মুসুল্লিদের একটা অংশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা বক্তার দিকে পাথর ছুড়ে মারেন। এতে বক্তা পাথর ও লাঠিতে আহত হয়েছেন। তাকে লাঠি দিয়েও পেটানো হয়েছে। এ হামলার ঘটনায় বক্তাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, হামলায় আহত ওই বক্তার নাম মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম বিন সাঈদ। এ সময় সাকিব নামে বক্তার এক খাদেমও আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে ঈদগাহ মাঠের পার্শ্ববর্তী একটি বাসায় নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বুধবার সন্ধ্যায় জানান, ঘটনার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। ফলে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বাঘা সদর ঈদগাহ মাঠে আদর্শ মানব কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলে প্রধান বক্তা ছিলেন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম বিন সাঈদ। আদর্শ সমাজ গঠন নিয়ে বয়ান করছিলেন তিনি। ঈদগাহ মাঠের পাশেই বাঘা শাহী মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় হজরত শাহদৌলা (র.) ও তার একাধিক অনুসারীর মাজার রয়েছে। আশপাশের এলাকায় হজরত শাহদৌলা (র.)-এর বহু ভক্ত রয়েছেন; যারা এই তাফসির মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বক্তার বয়ান চলাকালে মুসল্লিদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বক্তা মাজারে যাওয়া শিরক ও মহাপাপ বলে বয়ান দিচ্ছিলেন। এ সময় মুসল্লিরা উত্তেজিত হয়ে মঞ্চ লক্ষ্য করে পাথর ও ইট ছুড়তে শুরু করেন। বক্তা উত্তেজিত মুসল্লিদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা আরও বাড়ে। একপর্যায়ে পাথরের আঘাতে বক্তা ও তার খাদেম আহত হন। মুসুল্লিরা মাহফিল মঞ্চ ভাঙচুর করেন।
আয়োজকরা বক্তা ও তার সফরসঙ্গীদের দ্রুত মঞ্চ থেকে নামিয়ে পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে যান ও একজন ডাক্তার এনে চিকিৎসা দেন।
ঘটনার বিষয়ে আহত মাওলানা রফিকুল ইসলাম বিন সাঈদ বলেন, ৪টা পাথর লেগেছে আমার মাথায়। আমার হাতেও লাঠির আঘাত করা হয়েছে। হামলাকারীদের হাতে অস্ত্রও ছিল। আমার সফরসঙ্গী সাকিবও আহত হয়েছেন। কিভাবে আল্লাহ আমাদের বাঁচালেন, এখন বলতে পারছি না। সুস্থ হলে পরে বলব ইনশাআল্লাহ। ডাক্তার ওষুধ দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। আমি যার যার মাহফিলের বুকিং নিয়েছি- আগামীতে যত কষ্টই হোক আমি ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করব।
ঘটনা সম্পর্কে ওই বক্তার সফরসঙ্গী খাদেম মো. সাকিবুল ইসলাম বলেন, মাহফিলটা বাঘায় যেখানে হচ্ছিল তার পাশেই মাজার ছিল। বাঘা শাহী মসজিদের পাশে ঈদগাহ মাঠে মাহফিল চলছিল। হুজুর মাহফিলে মাজার, কবরে সেজদা ও শিরক নিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেজন্য মুসল্লিদের মধ্য থেকে কেউ কেউ অতর্কিত হামলা করেন। তারা লাঠি ও বাঁশ এনেছিল, পরে সরাসরি বক্তার ওপর ইট-পাথর নিক্ষেপ করেন। তার উপর অনেক আঘাত করা হয়। মাহফিল মঞ্চ ও মাইক ভাঙচুর করা হয়। ওরা ঘোষণা দিয়ে এসেছিল। এ বিষয়ে আয়োজকরা সতর্ক ছিল না। #