শীতের রাতে উষ্ণতার ছোঁয়া, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার স্মরণে কম্বল বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর ১৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নগরীর বুলনপুর ঘোষপাড়া এলাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আহ্ছানিয়া মিশন রাজশাহীর উদ্যোগে এ মানবিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তীব্র শীতে অসহায় ও নি¤œআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক শীতার্ত নারী-পুরুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আহ্ছানিয়া মিশন রাজশাহী শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি রোটারিয়ান ড. মো. গোলাম মাওলা, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. একরামুল ইসলাম, ট্রেজারার ড. নূরজাহান বেগম, যুগ্ম সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, সদস্য মামুনুর রশীদ লালন, সদস্য রফিকুল ইসলাম ফারুক, সদস্য জাহিদ হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সুবিধাভোগীদের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতেও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। এসময় আহ্ছানিয়া মিশন রাজশাহী শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি রোটারিয়ান ড. মো. গোলাম মাওলা বলেন, হজরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.) আজীবন মানবসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই আহ্ছানিয়া মিশন সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। শীতের এই সময়ে একটি কম্বল অনেক অসহায় মানুষের কাছে আশীর্বাদস্বরূপÍএমন বিশ্বাস থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সমাজে বৈষম্য কমাতে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শীতবস্ত্র পেয়ে বুলনপুর এলাকার ৫৫ বছর বয়সী আমেনা বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি স্বামীহারা মানুষ। শীত এলে খুব কষ্ট হয়। পুরোনো একটা চাদর দিয়েই রাত কাটাতে হতো। আজ এই কম্বল পেয়ে অনেক স্বস্তি লাগছে। আল্লাহ যেন এই সংগঠনের সবাইকে ভালো রাখেন।” তিনি আরও বলেন, শীতের রাতে সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয়, এই কম্বল অন্তত কিছুটা উষ্ণতা দেবে।
একই এলাকার ৬০ বছর বয়সী নজরুল ইসলাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি দিনমজুর মানুষ। শীতে কাজ কমে যায়, আয়ও থাকে না। কম্বল কেনার সামর্থ্য নেই। আজ যাঁরা আমাদের পাশে দাঁড়ালেন, তাঁদের কাছে আমরা চিরকৃতজ্ঞ।” তিনি বলেন, এমন উদ্যোগ শুধু শীত নিবারণই করে না, মানুষকে মানসিকভাবেও সাহস জোগায়।
আরেক সুবিধাভোগী বৃদ্ধা শিরিনা বেগম বলেন,“বয়স হয়ে গেছে, শরীরেও নানা অসুখ। ঠান্ডা লাগলে খুব সমস্যা হয়। আজ কম্বল পেয়ে মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কথা ভাবছে।” তার মতে, সমাজের বিত্তবানদের এমন মানবিক কাজে আরও এগিয়ে আসা দরকার। শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিকে ঘিরে বুলনপুর ঘোষপাড়া এলাকায় এক মানবিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শীতার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আয়োজকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। আহ্ছানিয়া মিশন রাজশাহীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, শীত মৌসুম জুড়ে নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চালানো হবে।