শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

মহান বিজয় দিবসে পবায় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

WP Import ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৭:৫০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৭:৫০ অপরাহ্ন
মহান বিজয় দিবসে পবায় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন
মহান বিজয় দিবসে পবায় বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন


নিজস্ব প্রতিবেদক:


মহান বিজয় দিবসে রাজশাহীর পবা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় পবা উপজেলা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ।

এর আগে উপজেলা চত্বরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সম্মান জানানো হয়। তোপধ্বনির শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা, আর সেই সঙ্গে জেগে ওঠে স্বাধীনতার গৌরবময় ইতিহাস। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশ, শ্রদ্ধা ও আবেগের আবরণে পবা উপজেলায় পালিত হয় মহান বিজয় দিবস।

বিজয়ের ৫৪ বছর পূর্ণ করে ৫৫ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে সকাল থেকেই শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের ধারাবাহিকতা চলে। বীর মুক্তিযোদ্ধারা, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ এবং সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় ও উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যায়ক্রমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান জানিয়ে পুষ্পস্তবক নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চোখেমুখে ছিল গর্ব ও আবেগের ছাপ, আর তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেখা যায় গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।

এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ বলেন,“বিজয় দিবস আমাদের আত্মপরিচয় ও গৌরবের প্রতীক। লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা আমাদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বিজয় দিবস শুধু একটি উৎসবের দিন নয়, এটি আমাদের শপথের দিন—দেশপ্রেম, সততা ও মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার শপথ নেওয়ার দিন। মহান বিজয় দিবসের এই আয়োজন পবা উপজেলায় নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের মধ্য দি

য়ে যে সংগ্রামের সূচনা, তা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে ৩০ লাখ শহীদ ও অসংখ্য মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

এদিকে বিজয় দিবস উদযাপনকে ঘিরে পবা উপজেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণ বর্ণিল সাজে সেজেছে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা থেকেই লাল-সবুজের আলোকচ্ছটায় ঝলমলিয়ে ওঠে পুরো উপজেলা চত্বর। জাতীয় পতাকার রঙে আলোকসজ্জা, ব্যানার-ফেস্টুন ও সাজসজ্জায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত আলোকিত প্রশাসনিক প্রাঙ্গণ দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে এসে বিজয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। আলোকসজ্জায় মুগ্ধ হয়ে ছবি তুলতে দেখা যায় তরুণদের।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান, উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল লতিফ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন, নির্বাচন কর্মকর্তা মতিউর রহমান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু বাশির, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা খাতুন, বিআরডিবি কর্মকর্তা শামসুন্নাহারসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়াও আরএমপির বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন, আলোচনা সভা, দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা। আলোচনা সভায় বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতার মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেন।