মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

বাঘায় সাপের কামড়ে গৃহবধুর মৃত্যু, আতঙ্কে পদ্মার চরের মানুষ

আমানুল হক আমান, বাঘা ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আমানুল হক আমান, বাঘা ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৮ অপরাহ্ন
বাঘায় সাপের কামড়ে গৃহবধুর মৃত্যু, আতঙ্কে পদ্মার চরের মানুষ

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার চরে জলমগ্ন হয়ে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে সাপ নিয়ে চরের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ থেকে পদ্মার পানি বৃদ্ধির পর থেকে তারা আতঙ্কে রয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাপের কামড়ে বিথি খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বিথি খাতুন উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশীফতেপুর চরের জহরুল ইসলামের স্ত্রী।



রোববার সকাল ৯টার দিকে গৃহবধূ বিথি খাতুন নিজ শয়ন ঘরে ইদুরের গর্তে মাটি দিতে য়ায়। এ সময় গর্তে থাকা বিষাক্ত সাপ তার হাতে কামড় দেয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরপর তার অবস্থা বেগতিক দেখে দায়িত্বরত ডাক্তার তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফাড করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।


এ দিকে চৌমাদিয়া চরে আট বছর আগে বিয়ে হয়েছে মমতাজ বেগমের। কোল জুড়ে দুটি সন্তান এসেছে। একটির বয়স ছয় বছর ও আরেকটির বয়স চার বছর। দুই সন্তান নিয়ে আতংকে বসবাস করছেন বলে তিনি জানান।


তিনি আরও বলেন, আমার শয়ন ঘরে শনিবার দুপুরে একটি গোখরা সাপ উঠেছিল। আমার চিৎকারে বাড়ির অন্যরা এগিয়ে এসে সাপটি মারা হয়েছে। ফলে আমি দুটি সন্তান নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছি।


দিয়ারকাদিরপুর চরের বৃদ্ধা মুঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, শনিবার সন্ধ্যার দিকে আমার বাড়িতে পরপর চারটি সাপ উঠে। এ সময় সাপ দেখতে পেয়ে চারটি সাপই মারা হয়েছে। সাপ চারটির মধ্যে দুটি গোখরা ও দুটি দুধরাজ।


চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেন শেখ বলেন, আমার বাড়ির পাশে এক বাড়িতে সোমবার সন্ধ্যায় দুটি সাপ উঠেছিল। সাপ দুটি তারা মারতে পারেনি। তবে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সাপ আতঙ্কে রয়েছে ১৫টি চরের প্রায় সাড়ে তিন হাজার পরিবার।


এ বিষয়ে লক্ষীনগর চরের সারমিন আক্তার আছিয়া বলেন, স্বামীসহ দুই সন্তানকে নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে হাঁটু পানিতে বসবাস করছি। কখন যে সাপ আসে সেই আতঙ্কে সারারাত ঘুমাতে পারি না। সাপের কামড় এড়াতে বা কামড় দিলে কী করণীয়, সেটাও ঠিকমতো জানি না।


চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, ফারাক্কার গ্রেট ঘুলে দেওয়ায় কারণে পদ্মার মধ্যে ১৫টি চরের নিচু প্রতিটি বাড়িতে পানি উঠেছে। পানি উঠার সঙ্গে সঙ্গে সাপের আশ্রয়গুলো ডুবে গেছে। ফলে সাপ উঁচু আশ্রয় স্থল হিসেবে মানুষের বাড়িতে উঠছে। আর সাপ বিষাক্ত বিধায় আতঙ্কে পড়ছে মানুষ।


চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জগলু শিকদার বলেন, পদ্মার চরের মানুষ এক সপ্তাহ থেকে দুঃখ দুর্দশার মধ্যে জীবন যাবন করছে। তাদের আশ্রয় স্থল পানিতে ডুবে গেছে। তাদের বাড়িতে খাবার নেই। বর্তমানে কোনো কাজও নেই। তারা খেয়ে না খেয়ে জীবন যাবন করছে।


তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ভাঙ্গনে পদ্মার চরের শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে অন্যত্রে আশ্রয় নিয়েছে। শত শত বিঘা জমির ফসল পানিতে ডুবে গেছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বাঘার পদ্মার মধ্যে প্রায় স্থানে পানি উঠেছে। এ কারণে সাপ উঁচু স্থান বেছে নেয়ার চেষ্টা করছে। ফলে সাপের উপদ্রব কিছুটা বেড়েছে। তবে সাপের উপদ্রব এড়াতে চরের লোকজনকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুর্দশার মধ্যে এক সপ্তাহ থেকে চরের মানুষ বসবাস করছে। #