মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

ফরিদপুরে সাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন ; অভিযুক্ত ইমন গ্রেপ্তার

পাবনা প্রতিনিধি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পাবনা প্রতিনিধি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ন
ফরিদপুরে সাকিব হত্যার রহস্য উদঘাটন ; অভিযুক্ত ইমন গ্রেপ্তার

পাবনার ফরিদপুরে বড়াল নদীর তীর থেকে কিশোর সাকিবুল ইসলাম ওরফে সাকিব (১৩) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে অভিযুক্ত আসামি ইমন হোসেনকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানটিও উদ্ধার করা হয়েছে।


সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ইমন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে। তবে তিনি বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলার দিঘুলিয়া গ্রামে বসবাস করেন।


এর আগে গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামে বড়াল নদী থেকে সাকিবের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সাকিব উপজেলার রতনপুর গ্রামের হারিছ প্রামাণিকের ছেলে।


পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাত, খুলি ভাঙা এবং নাক-মুখে রক্তের দাগ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সাকিবুল গত রবিবার সকালেও অটোভ্যান নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। সে ডেমরা-ফরিদপুর রাস্তায় যাত্রী পরিবহন করতো। তবে ওইদিন দুপুর থেকে সাকিব এর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তার পরিবারের। এক পর্যায়ে মাজাট গ্রামের লোকজন গ্রামের উত্তরে বড়াল নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করার পরে সাকিব এর বলে নিশ্চিত হয়। এ সময় তার অটোভ্যানটির সন্ধান পাওয়া যায়নি।


নিহত সাকিবের বাবা হারিজ উদ্দিন অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা তার ছেলেকে হত্যা করে মরদেহ নদীর তীরে ফেলে রেখে অটোভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দিনই ফরিদপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর-০৮।


মামলা হওয়ার পরপরই হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার ধানুয়াঘাটা গ্রাম থেকে সাকিব এর অটোভ্যান উদ্ধার করা হয়।


এ বিষয়ে ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম মাসুদ বলেন, গ্রেপ্তার ইমনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।


ওসি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।