বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র সূচকগুলো ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে

সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৪০ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৪০ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র সূচকগুলো ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে
যুক্তরাষ্ট্রের সড়কে আন্দোলনকারীরা

যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের মূল সূচকগুলো গত ৫০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে; একইসাথে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘হুমকি ও কর্মকাণ্ডের’ ফলে বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


স্টকহোমভিত্তিক ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেক্টোরাল অ্যাসিস্ট্যান্স’ (ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া)-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।


গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিশ্বজুড়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারের সুযোগ—এসবই গত অন্তত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।


আন্তঃসরকারি সংস্থাটির বার্ষিক ‘গ্লোবাল স্টেট অফ ডেমোক্রেসি’ (বিশ্বে গণতন্ত্রের অবস্থা) প্রতিবেদনটিকে এ ধরনের প্রতিবেদনের মধ্যে সবচেয়ে বিশদ ও পূর্ণাঙ্গ বলে বিবেচনা করা হয়। এতে ১৭৪টি দেশের তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং ১৯৭৫ সাল থেকে গণতান্ত্রিক কার্যকারিতা বা পরিস্থিতির পরিমাপ করা হয়।


ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্রের এই অবনমন বিশেষভাবে লক্ষণীয় হলেও এটি একটি বৈশ্বিক প্রবণতারই অংশ। ২০২৫ সাল ছিল টানা ১১তম বছর যখন গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির উন্নতির চেয়ে অবনমন হওয়া দেশের সংখ্যাই বেশি ছিল—যা সংস্থাটির তথ্য সংগ্রহের ইতিহাসে গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে দীর্ঘতম ধারাবাহিক পতনের ঘটনা।


প্রতিবেদনের রচয়িতারা বলেছেন, “২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঘটনাবলি গণতন্ত্রের প্রতি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং এর ক্ষয় রোধের কঠিন পরিস্থিতিকে যেমন স্পষ্ট করে তুলেছে, তেমনি তা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।”


তারা বলেছেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত নির্বাহী বিভাগে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন এবং সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজের সংকীর্ণ ব্যক্তিগত লক্ষ্য হাসিল ও কথিত শত্রুদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের চেষ্টা চালান... এর ফলাফল হয়েছে সুদূরপ্রসারী; এটি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই আইনের শাসনকে দুর্বল করেছে এবং দীর্ঘদিনের মিত্রতা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়গুলোকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।

”

‘ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়া’ -এর মহাসচিব কেভিন কাসাস-জামোরা সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অবনতির সাথে সাথে সংঘাতের ঝুঁকিও বেড়েছে।


তিনি বলেন, “আমাদের গবেষণার মূল বার্তা হলো—যেকোনো দেশের নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে গণতন্ত্রের বিকাশে বিনিয়োগকে রাখা উচিত। গণতন্ত্রের মানের অবক্ষয় এবং ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যকার যে যোগসূত্র রয়েছে, তা নীতিনির্ধারণী পর্যায় কিংবা জনবিতর্ক—কোথাও সেভাবে উঠে আসছে না।”


সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ‘উপসালা কনফ্লিক্ট ডেটা প্রোগ্রাম’-এর তথ্যে দেখা যায়, ১৯৪৬ সাল থেকে শুরু হওয়া তাদের ডেটাসেটের মধ্যে ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি সহিংস সংঘাত হয়েছে।


ইন্টারন্যাশনাল আইডিয়ার প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া—যেখানে বর্ণবাদবিরোধী কৌশল এবং শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুশীল সমাজের সাথে আলোচনা করা হয়েছে এবং সিরিয়া, যেখানে বাশার আল-আসাদের দমনমূলক স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে।


বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা গণ-আন্দোলনের ফলে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা নেতাদের পতন ঘটেছে; তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “স্বল্প সময়ের মধ্যে সুদূরপ্রসারী ও অর্থবহ সংস্কার সাধন করা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে।” 


তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি