জাতিসংঘে গোপন বৈঠক আমেরিকা ও ইরানের?
প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের আবহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ সভার ফাঁকেই মুখোমুখি বসল যুধান দুই পক্ষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদলের প্রায় তিন ঘণ্টা ব্যাপী এক ম্যারাথন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক স্তরে চলা অচলাবস্থার মাঝে এই বৈঠককে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে এক তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। বৈঠক শেষে ট্রাম্পের সাফ বক্তব্য, একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছানো আসলে ইরানের পক্ষেই সবচেয়ে বেশি লাভজনক।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প এই বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন। তবে একই সঙ্গে তাঁর চেনা মেজাজে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—একদিকে সম্ভাব্য ধ্বংস এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া, আর অন্যদিকে একটি সমৃদ্ধ ও মহান দেশ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ। তবে যে কোনও চুক্তির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের কড়া ‘রেড লাইন’ যে কোনও অবস্থাতেই বদলাবে না, তা ফের স্পষ্ট করে দিয়ে ট্রাম্প জানান, ইরানকে কোনও অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
সূত্রের খবর, নিউ ইয়র্কে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, এই বৈঠকেই কৌশলগতভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ফের চালু করার জন্য নিজেদের একাধিক শর্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে তেহরান। তাদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে সমুদ্র অবরোধ তুলে নেওয়া, আন্তর্জাতিক মঞ্চে আটকে থাকা ইরানের যাবতীয় সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ বা তাদের সমস্ত ফ্রন্টের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করা।
বৈঠকের পর মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও দুই দেশের মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হওয়ার খবর এখনও মেলেনি। গত কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘর্ষের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে গভীর সংকট তৈরি হয়েছিল, এই বৈঠকের পর অন্তত তা কাটার ক্ষীণ আশা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে কড়া সামরিক হুঁশিয়ারি আর অন্যদিকে কূটনীতির দরজা খোলা রাখার যে কৌশল ট্রাম্প প্রশাসন নিয়েছে, নিউ ইয়র্কের এই তিন ঘণ্টার বৈঠক তাতে কতটা বরফ গলাতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল।
তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন