শিশু সাজিদের মৃত্যুতে রাষ্ট্রের কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীর তানোরে পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের বোরহোলে পড়ে দুই বছর বয়সী শিশু সাজিদের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় রাষ্ট্রের কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া এ সংক্রান্ত একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।
লিগ্যাল নোটিশটি পাঠানো হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান, সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, তানোরের সহকারী প্রকৌশলী, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক, নাটোরের জেলা প্রশাসক, নওগাঁর জেলা প্রশাসক, বগুড়ার জেলা প্রশাসক, তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর।
নোটিশে বলা হয়েছে, পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত বোরহোলের কারণে শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়েছে, যা সরাসরি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও নজরদারির অভাবের ফল। এ ঘটনায় রাষ্ট্রের কাছে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। একই সঙ্গে বরেন্দ্র অঞ্চলে থাকা শত শত পরিত্যক্ত বোরহোল দ্রুত বন্ধ করা এবং অবৈধভাবে গভীর নলকূপ স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত ‘বরেন্দ্রজুড়ে শত শত মৃত্যুকূপ’ শিরোনামের প্রতিবেদনটির উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, অরক্ষিত ও পরিত্যক্ত নলকূপগুলো জনসাধারণের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে এবং যেকোনো সময় আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
আইনজীবী মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া জানান, নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে হাইকোর্ট ডিভিশনে জনস্বার্থে রিট মামলা দায়ের করা হবে।
শিশু সাজিদের মৃত্যুর ঘটনা ও এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর পরিত্যক্ত বোরহোল নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। শনিবার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) রেজাউল আলম সরকার রাজশাহী বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছে একটি চিঠি পাঠান।
চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজশাহী বিভাগে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি-সেচ) বিভিন্ন স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপন করে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এসব নলকূপের পাইপের মুখ অরক্ষিত বা উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে, যা মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।
দুর্ঘটনা রোধে আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার অরক্ষিত বা উন্মুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ গভীর নলকূপগুলোর তথ্য একটি নির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে একটি পরিত্যক্ত নলকূপের বোরহোলে পড়ে শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়। ব্যক্তিমালিকানায় অবৈধভাবে সেমিডিপ বসানোর উদ্দেশ্যে এই বোরহোল খনন করা হয়েছিল। প্রায় এক বছর ধরে গর্তটি উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।