ইরানবিরোধী অভিযান: ৮ মার্কিন নাবিকের আত্মহত্যার চেষ্টা
ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় মানসিক অবসাদ ও চরম চাপের শিকার হয়েছেন মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা। এর প্রমাণ মিলল খোদ মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগনের গোপন নথিতে।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি চিঠির তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী স্ট্রাইক গ্রুপের ৮ জন নাবিক আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।
নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও-এর লেখা ওই চিঠিটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর হাতে এসেছে। ইউএসব আব্রাহাম লিংকনের ক্রুদের মনোবল ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সিনেটর কার্সেন গিলিব্রান্ডের করা প্রশ্নের লিখিত জবাবে হাং কাও এই তথ্য জানান। কাও জানান, এই মোতায়েনকালীন সময়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডেমোক্রেট ও সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির জৌষ্ঠ সদস্য সিনেটর গিলিব্রান্ডকে লেখা এক চিঠিতে কাও উল্লেখ করেন, “লিংকনের মোতায়েন শুরুর পর থেকে এই নৌবহরজুড়ে মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “এই পরিসংখ্যানের মধ্যে লিংকনের ক্রুরা ছাড়াও ক্যারিয়ার এয়ার উইং, স্ট্রাইক গ্রুপ ও ডেস্ট্রয়ার স্কোয়াড্রন স্টাফ, সুরক্ষায় নিয়োজিত ডেস্ট্রয়ার এবং সব এমবার্কড এভিয়েশন স্কোয়াড্রনের নাবিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।”
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন অভিযান পরিচালনার সময় লিংকন স্ট্রাইক বহরের অংশ হিসেবে প্রায় ছয়টি জাহাজে ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার মার্কিন নাবিক ও সামরিক কর্মী মোতায়েন ছিলেন। রণতরীটি ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্দরের বাইরে অবস্থান করেছিল।
সিএনএন-কে এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা জানান, “আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা অবিশ্বাস্যরকম বেশি।” যেখানে সাধারণত এ ধরনের স্ট্রাইক গ্রুপগুলোতে পুরো বছরে এক বা দুটি এমন ঘটনা ঘটে, সেখানে যুদ্ধকালীন অপারেশনের মানসিক চাপ স্বাভাবিক মোতায়েনের চেয়ে অনেক বেশি থাকে; যেমন- কোনো বন্দরে না ভেড়া, সবসময় অ্যালার্ট অবস্থায় থাকা ইত্যাদি।
টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থাইল্যান্ডের ল্যাম চাবাং বন্দরে নোঙর করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযানগুলো কীভাবে সাধারণ সৈনিকদের মানসিক স্বাস্থ্যকে ভেঙে দিচ্ছে, এই ঘটনা তারই একটা নির্মম বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রাইজিংবিডি