আবারও ভারতীয় গম কিনছে বাংলাদেশ
কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে গমের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আবারও গমের জন্য ভারতের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশ। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত আগস্টের শেষের দিকে ভারত রপ্তানি বিধিনিষেধ শিথিল করার পর থেকে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা দুই লাখ টনেরও বেশি ভারতীয় গমের ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন। ২০২২ সালের পর বাংলাদেশে ভারতীয় গমের এটিই প্রথম বড় চালানের এলসি।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান গম রপ্তানিকারক অঞ্চল কৃষ্ণসাগর থেকে শস্য পরিবহন ব্যবস্থা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে টানা ব্যাহত হতে থাকায় বাংলাদেশের আমদানির উৎসে পরিবর্তন এসেছে।
বছরে ৭০ লাখ টনেরও বেশি গম আমদানি করতে হয় বাংলাদেশের। ২০২২ সালের মে মাসে ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করার আগে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় গমের প্রায় ৭০ শতাংশই আসতো দেশটি থেকে।
পরবর্তীতে আর্জেন্টিনা, কানাডা, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে গম আমদানি শুরু করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে দেশের মোট আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসতো কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে।
ব্লুমবার্গের সঙ্গে আলাপকালে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, বাংলাদেশে ভারতীয় গমের বেশির ভাগ চালানই আসবে রেলপথে। পরিবহন খরচসহ প্রতি টন গমের দাম পড়তে পারে ৩০৫ থেকে ৩২৬ ডলার। শ্রীলঙ্কার আমদানিকারকরাও সম্প্রতি জাহাজীকরণের আগে প্রতি টন ৩২৫ ডলারে প্রায় ৬০ হাজার টন ভারতীয় গম কিনেছেন।
রপ্তানি কড়াকড়ি শিথিল করল ভারত
তীব্র দাবদাহে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম বেড়ে যাওয়া ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় ২০২২ সালের মে মাসে ভারত গম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। এর ফলে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক চালান পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় চার বছর কড়াকড়ি বজায় রাখার পর নির্দিষ্ট কোটার মাধ্যমে ২০২৬ সালে এসে ভারত আবারও সীমিত পরিসরে গম রপ্তানির অনুমতি দিতে শুরু করে।
বাংলাদেশের সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ঢাকায় ময়দার দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে। চালের পর গমই দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য। ফলে মূল্যস্ফীতি এমনিতেই উচ্চ থাকায় গমের দাম বৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলভিত্তিক শস্য গবেষণা প্রধান ভ্লাদিমির জিনকোভস্কি ব্লুমবার্গকে বলেন, বাংলাদেশের জন্য মূল উদ্বেগ গমের সহজলভ্যতা নিয়ে নয়, বরং তা কেনার সামর্থ্য বা ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে। গমের দাম বাড়লে মানুষ বিকল্প হিসেবে চালের ব্যবহার বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও জানান তিনি।
তথ্যসূত্র: ব্লুমবার্গ, ঢাকাপোস্ট