বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

সৌদি আরবে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স, প্রয়োজনে যুদ্ধবিমানও

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:৩৮ অপরাহ্ন
সৌদি আরবে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স, প্রয়োজনে যুদ্ধবিমানও

সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় দেশটিতে সামরিক সদস্য, রাডার ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠাবে ফ্রান্স। টিএফ-১ ও ফ্রান্স-২ টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ কথা জানান।



ম্যাক্রোঁ বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি হয়েছে। আমরা সামরিক সরঞ্জাম—সৈন্য, রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠাব। কোনো সংঘাতে অংশ নেওয়ার জন্য নয়, বরং এই স্থাপনাটি রক্ষা করার জন্য।

তিনি বলেন, ফ্রান্সের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করা।


প্রয়োজনে রাফাল যুদ্ধবিমান পাঠাবে ফ্রান্স

ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় ফরাসি রাফাল যুদ্ধবিমানও পাঠানো হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


তিনি বলেন, এই অঞ্চলে আমাদের ইতোমধ্যেই বিমান রয়েছে। যাই হোক, আমরা এই স্থানটি রক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও এখান থেকে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি তেল রপ্তানি করা হচ্ছিল।


ম্যাক্রোঁর ভাষ্য, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে জ্বালানির দামের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, এই স্থানগুলোর কোনো একটিতে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রভাব পাম্পের দামে দেখা যায়। দুই দিনের মধ্যেই আপনি গ্যাস স্টেশনগুলোতে এর প্রভাব দেখতে পাবেন।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু বন্দর


ইয়ানবু বন্দর সৌদি আরবের লোহিত সাগরমুখী তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান টার্মিনাল। এটি ‘পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন’, যা ‘পেট্রোলাইন’ নামেও পরিচিত, এর মাধ্যমে পারস্য উপসাগরের কাছাকাছি সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রগুলোর সঙ্গে যুক্ত।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সময় এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি করতে পারে।


পাইপলাইনটির দৈনিক পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল। প্রয়োজনে সাময়িকভাবে এই সক্ষমতা বাড়িয়ে ৭০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত করা যেতে পারে। লোহিত সাগরের তীরে ইয়ানবুর অবস্থান সৌদি আরবকে ইউরোপীয় বাজারে তেল ও পরিশোধিত পণ্য পাঠানোর একটি বিকল্প পথও দেয়।


এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে ইয়ানবু বন্দর। বন্দর এলাকায় বড় আকারের তেল মজুত ও পরিশোধন সুবিধা রয়েছে।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স, রাইজিংবিডি