বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

ইমরানের মুক্তির দাবিতে মিছিল, কনটেইনারে অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ

সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪৩ অপরাহ্ন
ইমরানের মুক্তির দাবিতে মিছিল, কনটেইনারে অবরুদ্ধ ইসলামাবাদ
সংগৃহীত ছবি

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদমুখী দীর্ঘ মিছিলের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পাকিস্তান সরকার।


গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত পুলিশ ও রেঞ্জার্স মোতায়েন এবং সমাবেশ নিষিদ্ধ করে কার্যত কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে।


পিটিআই জানিয়েছে, ইমরান খানের মুক্তি ও সংবিধানের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি থেকে তারা সরে আসছে না।


দলটির নেতারা মিছিলকে শান্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বৃহস্পতিবার পিটিআই কর্মীদের কোনো ধরনের অস্ত্র, লাঠি বা গুলতি না নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, রাজধানীর সড়ক দখল করে দীর্ঘ সময় জনজীবন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, সরকার মিছিল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


কনটেইনারে আটকে দেওয়া হচ্ছে সড়ক

২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি সামনে রেখে ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক কনটেইনার জড়ো করা হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে পাঁচ বা তার বেশি মানুষের সমাবেশ, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।


এ ছাড়া ইসলামাবাদে ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডি ও আশপাশের এলাকাতেও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রবেশপথে কনটেইনার বসিয়ে ব্যারিকেড তৈরির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল সীমিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


পাঞ্জাব সরকার রাওয়ালপিন্ডি, আত্তক, ঝেলাম ও মিয়ানওয়ালিতে রেঞ্জার্স মোতায়েনের জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করেছে। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাবের কয়েকটি জেলায় রেঞ্জার্স মোতায়েনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।


ইমরানের তিন বোনও আটক

মিছিলের আগে ইমরান খানের তিন বোন-আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলিমাকে আটকের পর উজমা ও নোরিনকেও ৩০ দিনের জন্য আটক করা হয় এবং তাদের লাহোরের কোট লাখপত কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


এই আটকাদেশের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ইমরান খানের পরিবার। ২৪ সেপ্টেম্বর লাহোর হাইকোর্ট উজমা ও নোরিনের আটকাদেশ তাৎক্ষণিক স্থগিতের আবেদন নাকচ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে জবাব চেয়েছে। আলিমার আটকাদেশ নিয়েও আদালতে পৃথক আবেদন করা হয়েছে।


পিটিআই চেয়ারম্যান গোহর আলী খান এসব আটকের সমালোচনা করে দলীয় কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখার কথা জানিয়েছেন। দলটির নেতারা বলছেন, তারা সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার হিসেবে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন।


ইসলামাবাদমুখী সড়কেও বিধিনিষেধ

বিক্ষোভ ঠেকাতে ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র বিভাগ রাওয়ালপিন্ডি ও আত্তকের নির্দিষ্ট এলাকায় ২৭ সেপ্টেম্বর মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা সীমিত বা বন্ধ রাখার জন্য কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করেছে বলেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।


এদিকে ইসলামাবাদ হাইকোর্টও জানিয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলেরই জনসাধারণের সড়ক, মহাসড়ক বা সরকারি স্থাপনা দখল করে রাখার আইনগত অধিকার নেই। আদালত প্রাদেশিক সরকারগুলোকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রপাতির অপব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছে।


একই সময়ে আইএমএফের প্রতিনিধিদল

রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি প্রক্রিয়াও চলছে। দেশটির ৭০০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির চতুর্থ পর্যালোচনা শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল।


২৩ সেপ্টেম্বর করাচিতে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে আইএমএফ মিশন। মূল্যস্ফীতি, মুদ্রানীতি ও বিনিময় হারসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদে গিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।


তবে আইএমএফের ইসলামাবাদ সফর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হবে কি না, তা রাজধানীর পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করছে বলে পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দ্য নিউজ জানিয়েছে।


ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে রয়েছেন। তার দল দীর্ঘদিন ধরে তার মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার ও আদালতের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পিটিআইয়ের সঙ্গে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।


২৭ সেপ্টেম্বরের মিছিলকে ঘিরে রাজধানীতে বড় ধরনের জনসমাগম হলে সড়ক যোগাযোগ ও স্বাভাবিক নাগরিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে আইএমএফের প্রতিনিধি দলের ইসলামাবাদ সফর নির্ধারিত থাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর থাকছে।


তথ্যসূত্র: এএফপি, বাংলানিউজ