অঙ্গরাজ্যগুলোর এআই আইনের বিপক্ষে লড়তে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ

সোনার দেশ ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের একেক রাজ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে একেক রকম আইনের কারণে জটিলতায় থাকা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরকে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক এআই আইনগুলো মোকাবিলার নির্দেশ দিয়ে তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন। কংগ্রেস একটি জাতীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো করে না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর হবে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “এআই কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে চায়, এখানেই কাজ করতে চায়। ভালো বিনিয়োগও আসছে। কিন্তু যদি তাদের ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে ৫০ ধরনের অনুমোদন নিতে হয়, তাহলে সেটা সম্ভব নয়, ব্যাপারটা ভুলে যেতে হবে।”
তিনি বলেন, “কেবল একজন বিরূপ অবস্থান নিলেই পুরো প্রক্রিয়া থেমে যাবে। তাই এভাবে কাজ করা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।”
সংবাদমাধ্যম টিআরটিওয়ার্ল্ড লিখেছে, ট্রাম্প বহুবার কংগ্রেসকে জাতীয় এআই কাঠামো অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, এআই দৌড়ে চীনের চেয়ে এগিয়ে থাকার জন্য এটি জরুরি। তবে কংগ্রেসে শুধু ডেমোক্রেট নয়, রিপাবলিকানদের একাংশ থেকেও তিনি বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।
এ মাসের শুরুর দিকে রিপাবলিকান সেনেটর টেড ক্রুজ বার্ষিক প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলের সঙ্গে জাতীয় মানদণ্ডের প্রস্তাব যুক্ত করতে চাইলে তা খারিজ হয়ে যায়। তখন আরেক রিপাবলিকান সেনেটর জোশ হাওলি, যিনি নিজেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছিলেন, “ভালো হয়েছে। এটি খুবই খারাপ একটি প্রস্তাব ছিল, এবং এটা বাদ দেওয়াই উচিত।”
‘এআই লিটিগেশন টাস্ক ফোর্স’
ট্রাম্প এককভাবে কোনো ফেডারেল মানদণ্ড তৈরি করার ক্ষমতা না রাখলেও তার নির্বাহী আদেশে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে একটি ‘এআই লিটিগেশন টাস্কফোর্স’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দলটি এমন সব রাজ্য এআই আইনের বিরুদ্ধে লড়বে, যেগুলো আদেশে বর্ণিত ‘ন্যূনতম চাপসৃষ্টিকারী জাতীয় নীতি কাঠামোর’ সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আদেশে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যগুলোর এআই নিয়ন্ত্রণ আইন ‘আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপ’, ‘বিদ্যমান ফেডারেল বিধিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক’ এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের বিবেচনায় ‘বেআইনি’।
ট্রাম্পের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টো বিষয়ক উপদেষ্টা ধনকুবের ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাক্স এআই নিয়ে জাতীয় মানদণ্ড তৈরির চেষ্টায় প্রশাসনকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “এই পদক্ষেপ প্রশাসনকে সবচেয়ে ‘কঠোর’ আইনগুলোর সঙ্গে লড়তে সহায়তা করবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সব কিছুর বিরুদ্ধে যাচ্ছি না। যেমন, শিশুদের নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত রাখব। কিন্তু রাজ্যগুলোর সবচেয়ে কঠোর ও অতিরিক্ত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ