মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

৯ মাসে মব সহিংসতা-গণপিটুনিতে ১৮৭ জন নিহত: এইচআরএসএস

সোনার দেশ ডেস্ক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন জাতীয়
সোনার দেশ ডেস্ক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
৯ মাসে মব সহিংসতা-গণপিটুনিতে ১৮৭ জন নিহত: এইচআরএসএস
সংগৃহীত ছবি

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে সারাদেশে এক হাজার ১৩টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৭৩ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৪৭৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ৩৯৮টি মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন।


কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ বন্দী। এছাড়া ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬ জন, জামায়াতের ৮ জন এবং আওয়ামী লীগের ৬ জন রয়েছেন।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক সহিংসতায় আহতদের মধ্যে বিএনপির অন্তঃকোন্দল ও অন্যান্য দলের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাগুলো উল্লেখযোগ্য।


নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় ২ হাজার ৬২৩ জন আহত এবং ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

এসব ঘটনায় ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নয় মাসে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৫৭ জন ধর্ষণের শিকার, ১৩০ জন গণধর্ষণের শিকার এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে। একই সময়ে ১ হাজার ৮১০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যার মধ্যে ৪৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।


এ সময়ে ২৮৮টি ঘটনায় ৫১৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৯৭ জন আহত, ৮৭ জন লাঞ্ছিত এবং ৭৭ জন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ২০ জন সাংবাদিককে।


এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, কারাগারে মারা যাওয়া ৯৫ বন্দীর মধ্যে ৪০ জন কয়েদি ও ৫৫ জন হাজতি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।


প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলার ঘটনায় ৬২ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


এ ছাড়া সীমান্তে হতাহত, শ্রমিক নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং গুম ও জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।


সার্বিক বিষয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, নারী-শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক হয়রানি এবং হেফাজতে ও কারাগারে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


তথ্যসূত্র: বাংলানিউজ