মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

মার্কিন নির্বাচনে জালিয়াতির তালিকায় দুই ভারতীয়

সোনার দেশ ডেস্ক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৩ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৩ অপরাহ্ন
মার্কিন নির্বাচনে জালিয়াতির তালিকায় দুই ভারতীয়
ছবি: সংগৃহীত।

ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে ২০২৪ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির যে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ২৮ জন গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি। এবার সেই তালিকায় রয়েছেন দুই ভারতীয়ও। মার্কিন বিচার বিভাগ (উঙঔ) জানিয়েছে, নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করা এবং ভোট দেওয়ার অভিযোগে এবার নির্বাচনে জালিয়াতির মামলা দায়ের হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।


সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত দুই ভারতীয় হলেন র‍্যাঞ্চো পালস ভার্দেসের বাসিন্দা আমনদীপ কৌর (৩০) এবং স্যাকেমেন্টোর বাসিন্দা কমলেশ নবনীতলাল শাহ (৬৭)। আমেরিকার বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারী আমনদীপ কৌর ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলেন ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। অন্যদিকে, কমলেশ নবনীতলাল শাহ ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের দিনই নিজের নাম ভোটার হিসেবে নথিভুক্ত করেন। নাম নথিভুক্তির দিনই ভোটদানের ফলে শাহের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক চার্জশিট বা ‘ইনফরমেশন’-এর মাধ্যমে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া জুড়ে ভোররাতের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ১১ জনের মধ্যে এই দু’জন আছেন কি না, তা আপাতত স্পষ্ট নয়।


ক্যালিফোর্নিয়ার ৪টি মার্কিন অ্যাটর্নি অফিসের যৌথ উদ্যোগে গঠিত ‘অপারেশন প্রটেক্ট দ্য ভোট’-এর আওতায় এই অভিযোগ এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন সংক্রান্ত জালিয়াতির তদন্ত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা।


বিচার বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, “অভিযুক্ত ২৮ জন বিদেশি নাগরিকই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা ‘গ্রিন কার্ড’ধারী।” ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ট্রেন্ট ম্যাককটার জানান, নির্বাচনী আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া ২০,০০০-এরও বেশি সন্দেহভাজন বিদেশী নাগরিকের তালিকার মধ্যে থেকেই এই ২৮ জনের নাম উঠে এসেছে।


অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্বের মিথ্যে তথ্য প্রদান এবং জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্তির মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে। মার্কিন আইনে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের যুক্তরাষ্ট্রীয় কারাদণ্ডের নিয়ম রয়েছে। তবে সর্বোচ্চ শাস্তি মানেই যে প্রত্যেক অভিযুক্তই পাঁচ বছরের জেল পাবেন, তা নয়। তাঁদের সাজা নির্ভর করবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রাপ্ত প্রমাণ এবং আদালতের রায়ের উপর।


সোমবারের এই ঘোষণার আগেই চলতি বছর মার্কিন বিচার বিভাগ নির্বাচন সংক্রান্ত নানা অনিয়মের অভিযোগ এনেছে প্রায় ৯০ জনের বিরুদ্ধে। তাঁদের মধ্যে দায়ের হয়েছে মামলাও। এর মধ্যে ৫০ জনের বিরুদ্ধে বিদেশী নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন