মঙ্গলবার, অক্টোবর ২০, ২০২৬

গুরুদাসপুরে দুই বছরে যক্ষ্মায় মারা গেছেন ৫১ জন

আবুল কালাম আজাদ ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আবুল কালাম আজাদ ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৭ অপরাহ্ন
গুরুদাসপুরে দুই বছরে যক্ষ্মায় মারা গেছেন ৫১ জন

যক্ষ্মা (!) একটি বহুল আলোচিত মরণঘাতি সংক্রমণ। এক সময়ে যক্ষ্মা সম্পর্কে চরম ভীতি ছিল দেশে । যার হয়েছে তার মৃত্যুতেই মুক্তি মনে করা হতো। প্রবাদ আছে ‘যার হয়েছে যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা।’ কিন্তু এখন আধুনিক চিকিৎসায় যক্ষ্মা মরণঘাতি রোগ নয়। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে যক্ষ্মা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সরকারি হাসপাতাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় বিনা খরচে পরিক্ষা-নিরিক্ষা করে ওষুধপত্রসহ সেবা দেওয়া হচ্ছে।  নিয়মিত ফলোআপ দিয়ে রুগির খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। এতে আক্রান্ত যক্ষ্মা রোগির মৃত্যু সংখ্য অনেক কমে এসেছে। এখন প্রবাদ  বিপরীতভাবে বলা হচ্ছে ‘যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই, এ কথার ভিত্তি নাই।’


চিকিৎসকদের মতে-চিকিৎসার দ্বারা টিবিকে প্রায় চিরতরে সারিয়ে তোলা সম্ভব। ৬ মাসের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স অবশ্যই নিতে হবে। কারণ কয়েক ধরনের টিবিতে কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক কাজে দেয় না।


তার পরও নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় যক্ষ্মায় আক্রান্ত রোগির মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য /এক ডিজিটের ঘর আনা যাচ্ছে না। উপজেলা হাসপাতালের তথ্যে জানা গেছে, গত  দুই বছরে  যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত  চিকিৎসাধীন রুগীর মধ্যে ৫১ জন  মারা গেছেন।  এর মধ্যে পুরুষ  ৪১ এবং নারী  ১১ জন। তথ্যে জানা যায় ২০২৪-২৫ সালে পুরুষ ২২ জন  এবং নারী ৫ জন সহ মোট ২৭ জন মারা গেছেন। এ বছরে যক্ষ্মায় শনাক্ত রুগীর সংখ্যা ছিল পুরুষ ৫৪৩ এবং নারী ৩০০ জনসহ মোট ৮৪৩ জন। ২০২৫-২০২৬ সালে মারা গেছেন পুরুষ ১৮ এবং নারী ৬ জনসহ মোট ২৪ জন। টিবি সন্দেহে ল্যাবরেটরিতে পরিক্ষা করা হয়েছে  পুরুষ ১হাজার ১২৫ এবং নারী ৭৬৭ জন সহ মোট ১ হাজার ৮৯২ জন।  


উপজেলা হাসপাতালের case Finding of Tuberculosis –TB১০ ২০২৫-২০২৬ সালের বার্ষিক  প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ব্যাক্টেরিওলজিক্যালি কনফার্ম  টিবি কেস- নতুন পুরুষ ১৫২ ,নারী ৬৩ জন সহ ২১৫ জন এবং প্রিভিয়াস রিপ্লেস পুরুষ ৭ নারী ৩ জন সহ মোট ১০ জন , সর্বমোট ২২৫ জন। ক্লিনিক্যালি ডায়াগনোসড- নতুন-পুঃ ৮৪, নারী ৩২ সহ মোট ১১৬ জন এবং  প্রিভিয়াস রিপ্লের পুরুষ ৭, নারী ৪ জন সহ মোট ১১ জন সহ সর্বমোট ২১৭ জন। নতুন এবং প্রিভিয়াস ট্রিটমান্ট  ১০ জন সহ সর্ব মোট  ২৩৭ জনকে কনফার্ম টিবি অক্রান্ত  ২৩৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এ ছাড়া no. of Tb patientnts screend  for HIV before or during TB transment  পুরুষ ১১১, নারী ৬১ জনসহ ১৭২ জন। এক্স-রে করা  হয়েছে –পুরুষ ১হাজার ৩০৭ ও নারী ১ হাজার ৭৮৯ জন সহ মোট ৩ হাজার ৯৬ জন। এর মধ্যে টিবি সাজেস্টেড পুরুষ ২৮০ এবং নারী ১৭৫ জন সহ মোট ৪৫৫ জন।


তথ্যসুত্রে জানা যাচ্ছে- রিপোর্টিং ২০২৫-২০২৬ বছরে যে সব সোর্স থেকে প্রাথমিক সন্দেহজনক রোগি রেফার করা হয়েছে তা হচ্ছে, গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট প্র্যাক্টিশনার থেকে ৯৯ জন, নন গ্র্যাজুয়েট প্রাইভেট  প্র্যাক্টিশনার  থেকে-১ জন,  সরকারি মাঠ কর্মি-৯ জন, স্বাস্থ্য সেবিকা/এন জি এফ সি-১৮০ জন, ভিলেজ ডাক্তার-১২  জন, কমিউনিটি ভলান্টিয়ার-৪২ জন, প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে-১জন এবং সরকারি হাসপাতাল ৯৯ জনসহ মোট ৪৪৩ জন রেফার করেছে ।


গুরুদাসপুর হাসপাতালের যক্ষ্মা বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, ল্যাবরেটরিতে পরিক্ষার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র মোতাবেক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বয়স ভেদে ওষুধ বিতরণ ও পরামর্শ  দেওয়া দচ্ছে। চিকিৎসাধীন রোগিদেরকে স্বাস্থ্য সেবিকা/ এনজিওএফএস দিয়ে ফলোয়াপ দিয়ে তারা নিয়ম মেনে ওষুধ খাচ্ছে কিনা, নিয়ম মানছে কিনা, পুষ্টিকর কাবার খাচ্ছে কিনা, রোগির অগ্রগতি যাচাই করে ব্যবস্থাপত্র দেয়া হচ্ছে এবং চেতনা বৃদ্ধিতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন রোগিদের অনেকে অধৈর্য্য হয়ে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করেন, ব্যবস্থাপত্র মোতাবেক পথ্য না খাওয়ায় এবং নিয়ম না মেনে চলায় মৃত্যুবরন করছেন। যার করণে মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যাচ্ছে না।  


উপজেলা স্বাস্থ্য ও পপ কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমাস মুঠো ফোনে বলেন, হাসপাতাল থেকে বিনামুল্যে ল্যাবরেটরি এবং এক্স-রে টেস্ট করে  যক্ষ্মা শনাক্ত হলে ওষুধ ও সেবা দেওয়া হচ্ছে। তার পরও সচেতনতার অভাবে ও নিয়ম না মানায় অনেকে মারা যাচ্ছেন। সংক্রমণ এড়াতে সবাইকে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। মিল-কারখানা, হাট-বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিবেশসম্মত করতে হবে। চাল কল, বয়লার, ইট ভাটার কালো ধোঁইয়া নির্গতের মানসম্পন্ন  চিমনি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।  এ জন্য ব্যক্তি, পারিবারিক  এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।   


যক্ষ্মা (টিবি) রোগের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা বিষয়ে Pulmonology by Dr. Raja Dhar  লিখেছেন, একজন ব্যক্তির নানা ধরনের টিবি হতে পারে। যেমন -সুপ্ত বা প্রচ্ছন্ন টিবি:এই ধরনের টিবিতে শরীরে ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় আকারে থাকে। তখন প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে আমাদের শরীর এই ব্যাকটেরিয়াকে সক্রিয় হতে দেয় না। এই পরিস্থিতিতে টিবির কোনও লক্ষণও দেখা যায় না। তবে ভবিষ্যতে এই ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হতে পারে।