শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, ডিবি হেফাজতে যুবক ও তার বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে ফেসবুকে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, ডিবি হেফাজতে যুবক ও তার বাবা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের সময় তাঁকে বহনকারী রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাসের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা যুবক আবু বকর সিদ্দিককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার (২১ অক্টোবর) তাকে আটকের পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বাবা আয়নাল হককেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়সাল ইশতিয়াক। তিনি বলেন, ওই যুবককে আটক করা হয়েছে এবং তিনি এখন ডিবির হেফাজতে আছেন। বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আরও জানান, বাবা ও ছেলেকে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, বিষয়টি নিয়ে ডিএমপি কাজ করছে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী এসআরবি অভিযুক্ত যুবককে আটক করে ডিএমপির কাছে হস্তান্তর করেছে। এ বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।


আবু বকর সিদ্দিকের বাড়ি রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানার কেচুয়াতৈল এলাকায়। তিনি রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবা আয়নাল হক পেশায় কৃষক। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, পড়াশোনার পাশাপাশি আবু বকর ভ্যানে সবজি পরিবহনের কাজ করেন। তার মা আসমাউল হুসনা দাবি করেছেন, তার ছেলে নিরীহ ও পরিশ্রমী। তাকে এ ঘটনায় ফাঁসানো হচ্ছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও চন্দ্রিমা থানা-পুলিশের একটি দল আবু বকরের বাড়িতে যায়। সে সময় তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পরে বিকেলে এসআরবি-৫-এর সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে তার বাবা আয়নাল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যান। বাবার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পবা উপজেলার হাটরামচন্দ্রপুরের ঘোলহারিয়া গ্রামে মামার বাড়ি থেকে আবু বকরকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় পরিবারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।


বৃহস্পতিবার সকালে আবু বকরের বাড়িতে তল্লাশি চালান চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম। প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশির পর পুলিশ জব্দ করার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো আলামত পায়নি। শুধু একটি পেনড্রাইভের মোড়ক জব্দ করা হয়েছে। পুলিশ তার ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা করলেও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, আবু বকর ল্যাপটপ ব্যবহার করতেন না এবং তার কোনো ল্যাপটপ নেই।


রাজশাহী নিউ গভর্নমেন্ট ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম বলেন, আবু বকর কলেজের নিয়মিত শিক্ষার্থী এবং প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। কলেজে তার খারাপ কোনো আচরণ তিনি দেখেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কয়েকজন

শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে কিছু কথা শুনেছেন বলে জানান তিনি।

কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাহমুদ হাসান লিমন বলেন, প্রশাসনের লোকজনের কাছে তিনি শুনেছেন, আবু


বকর আগে ছাত্রলীগ করতেন এবং বর্তমানে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত বলে আলোচনা রয়েছে। তবে কলেজে এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড তিনি নিজে দেখেননি। অন্যদিকে, ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর সভাপতি ইমরান নাজির দাবি করেন, আবু বকর তাদের সংগঠনের জনশক্তি নন।


চন্দ্রিমা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, আবু বকর আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কি না, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না কিংবা তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কী—এ বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই।


মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শাহ মখদুম বিমানবন্দর থেকে রুয়েটের একটি বাসে নগরে প্রবেশ করেন। ওই বাসে করেই তিনি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেন এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করেন। পরে একই বাসে বিমানবন্দরে ফিরে যান।


প্রধানমন্ত্রীর সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মন্তব্যটি ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর হয়।


এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।