রাবির দ্বাদশ সমাবর্তনের অতিথি পুনর্বিবেচনা করাসহ ৩ দাবি, না মানলে বর্জনের ঘোষণা

রাবি প্রতিবেদক :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দ্বাদশ সমাবর্তনের অতিথি পুনর্বিবেচনা করাসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে রেজিস্ট্রেশনকারী শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সমাবর্তন বর্জনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এসময় সমাবর্তনের জন্য রেজিস্ট্রেশনকারী ৬০, ৬১ ও ৬২ ব্যাচের পক্ষ থেকে রাসেল কবির (২০১২-১৩ সেশন, ৬০ ব্যাচ) ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (২০১৩-১৪ সেশন, ৬১ ব্যাচ) উপস্থিত ছিলেন।
তাদের অন্য দুইটি দাবি হলো- সমাবর্তনের তারিখ পুনর্বিচনা করা এবং পুণরায় রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া। এইকসঙ্গে আরও কয়েকটি দাবি যুক্ত করেন তাঁরা। সেগুলো হলো- সমাবর্তনের জন্য নেওয়া ফি কোন ব্যাংকে রাখা ছিল, সেখান থেকে কত লভ্যাংশ পাওয়া গিয়েছে এবং পুরো সমাবর্তনের বাজেটের হিসেব প্রকাশ করা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষ ও ৬০ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাসেল কবির। তিনি বলেন, এই সমাবর্তন ২০২৩ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি এখন জাতীয় নির্বাচনের আগে আগামী ১৭ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা এই আয়োজনকে ঘিরে তিন দফা দাবি জানিয়ে গত ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যদ্বয়, রেজিস্ট্রার এবং ছাত্র উপদেষ্টার অফিশিয়াল মেইলে স্মারকলিপি পাঠিয়েছিলাম। আমাদের দাবির ব্যাপারে পরবর্তীতে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ফরিদ খান স্যার ২ ডিসেম্বর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আমাদের দাবি পূরণে অপারগতা প্রকাশ করে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করেন।
অতিথি পুনর্বিবেচনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা অতিথি নির্বাচন নিয়ে চরম অসন্তোষ ব্যক্ত করছি। আমরা কোন অতিথিকে ছোট করে দেখছি না। অসম্মান বা অশ্রদ্ধার জায়গা। থেকেও দেখছি না। আমরা অতিথির বিষয় বিবেচনা করছি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ও ঐতিহ্যের জায়গা থেকে। যদি উপরোক্ত অতিথি আসন্ন নির্বাচনের আগে পাওয়া না যায়, তাহলে সমাবর্তনীরা নির্বাচনের পরে নির্বাচিত সরকারের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানকে অতিথি করার ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত করছি আমরা।
তারিখ পুনর্বিবেচনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের অসংখ্য শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ডিসেম্বর মাসে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে কাজের চাপ বেশি থাকে। আবার বিজয়ের এই মাসে সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থাকে যা বাস্তবায়নে অফিসের সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও এই মাসটিতে ব্যস্ততা বেশি থাকে।
এমন একটি মাসে সপ্তাহের মাঝামাঝি তারিখ নির্ধারণ অনেকের ক্ষেত্রে সমাবর্তনে অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। অতএবং এই তারিখ পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।
রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ানোর বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারেননি। এই সমাপনী মুহূর্ত শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জনের স্বীকৃতি। কোনো শিক্ষার্থীই মিস করতে চায় না। তাই রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অত্যন্ত মানবিক একটি প্রত্যাশা। আমরা আশা করি, এই মানবিক বিবেচনাটি প্রশাসন করবে।