শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

জলবায়ু নীতি প্রণয়নে যুব ও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গেটকার দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন

WP Import ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:২০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:২০ অপরাহ্ন
জলবায়ু নীতি প্রণয়নে যুব ও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গেটকার দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন
জলবায়ু নীতি প্রণয়নে যুব ও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গেটকার দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন


নিজস্ব প্রতিবেদক:


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় যুব ও নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হলো জেন্ডার সমতা ও নারীর নেতৃত্ব উন্নয়ন বিষয়ক ক্যাফ সদস্যদের নিয়ে দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে ডাসকো ফাউন্ডেশনের কনফারেন্স রুমে ‘জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি ট্রান্সফর্মস ক্লাইমেট অ্যাকশন’ (গেটকা) প্রকল্পের এই ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করা হয়। সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী ও চারঘাট উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো নারী ও যুবদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করে জলবায়ু অভিযোজনের একটি টেকসই মডেল তৈরি করা।

ওরিয়েন্টেশনের প্রথম সেশনের উদ্বোধন করেন, গেটকা প্রকল্পের ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি ও রুলফাও এর পরিচালক আফজাল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের নির্বাহী সদস্য ও সোনার দেশ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত।

আরও বক্তব্য দেন, বরেন্দ্র উন্নয়ন প্রচেষ্টার নির্বাহী পরিচালক ও ফোরামের সহ-সভাপতি ফয়েজুল্লাহ চৌধুরী, ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দা শামসুন্নাহার মুক্তি, সমাজসেবক বিমল চন্দ্র রাজোয়ার, মানবাধিকার কর্মী আশরাফুল হক তোতা, ফোরামের কোষাধ্যক্ষ শেফালী এবং সদস্য শহর ও বস্তি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক হাসিনুর রহমান।

দ্বিতীয় সেশনে গেটকা প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশন করেন ডাসকোর জেলা সমন্বয়কারী মদন দাস। তিনি বলেন,“জলবায়ু সংকটে নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী দ্বিগুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের অভিজ্ঞতা, দাবি ও নেতৃত্ব জলবায়ু নীতি ও পরিকল্পনায় প্রতিফলিত না হলে ন্যায্য পরিবর্তন সম্ভব নয়।”তিনি উল্লেখ করেন,“জেন্ডার সমতা শুধু সামাজিক ন্যায়বিচার নয়; এটি টেকসই জলবায়ু অভিযোজনের মূল শর্ত।”

তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যেমন পানি সংকট, ফসল উৎপাদন হ্রাস, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জীবিকা সংকট—এসব ক্ষেত্রে নারীরা কীভাবে বহুমাত্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তা তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় সেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড়-খরা-বন্যার তীব্রতা, উপকূলীয় লবণাক্ততা ও বরেন্দ্র অঞ্চলের পানি সংকট নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন,“সবচেয়ে কম দূষণকারী দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এটাই জলবায়ু অন্যায়।

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েই এই বৈষম্য দূর করা সম্ভব।”
ওরিয়েন্টেশনে জানানো হয়, জলবায়ু ঝুঁকির কারণে গ্রামীণ নারীরা পানি সংগ্রহ, জ্বালানি সংগ্রহ, পরিবার ব্যবস্থাপনা ও শিশুর যত্নে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েন।

গেটকা প্রকল্পের আওতায় ডাসকো ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন কাজ করছে— নারীর নেতৃত্ব বিকাশে, স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু কমিটি গঠন, নারী-তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, জেন্ডার-সংবেদনশীল বাজেট বিশ্লেষণ, জলবায়ু নীতি পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে।

বক্তারা বলেন, “জলবায়ু সংকটে নারী ও শিশু সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ কম—এই বৈষম্য না কমলে কার্যকর অভিযোজন সম্ভব নয়।”

গ্রুপ ডিসকাশনে অংশগ্রহণকারীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেন— স্থানীয় পর্যায়ে নারী ও তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সম্পৃক্ত করা, জলবায়ু পরিকল্পনায় জেন্ডার ডাটা সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা, কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগে নারী নেতৃত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া, পানি, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ভর্তুকি প্রদান।
তারা বলেন,“জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শুধু প্রযুক্তি নয়, প্রয়োজন সমতার ভিত্তিতে সমাজ গঠন। নারীরা নেতৃত্ব পেলে টেকসই সমাধান নিশ্চিত হবে।”

দিনব্যাপী ওরিয়েন্টেশন শেষে আয়োজকেরা জানান, গেটকা প্রকল্পের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে। তাদের বক্তব্য—“জেন্ডার সমতা ছাড়া জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরি হলে বাংলাদেশ জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় আরও সক্ষম হবে।”
সকল অংশগ্রহণকারীর সক্রিয় উপস্থিতি, মতবিনিময় ও সুপারিশের মাধ্যমে ওরিয়েন্টেশনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।