‘বাংলাদেশ বই কিনি উৎসব’র জাতীয় সম্মেলন ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত

রাবি প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ বই কিনি উৎসব- এর জাতীয় সম্মেলন ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৯ টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেটে ভবনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন রাবি’র প্রফেসর ইমেরিটাস এ কে এম আজহারুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন, রাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সালেহ্ হাসান নকীব। বিশেষ অতিথি ছিলেন রাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান, টিএমএস বগুড়া জেলার নির্বাহী পরিচালক হোসনেয়ারা বেগম এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক টুকটুক তালুকদার। সভাপতিত্ব করেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. আমিরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাবি উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মো. ফরিদ উদ্দীন খান বলেন, আমরা আসলে ঢাকা কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছি। সে পরিস্থিতিতে এমন একটা জাতীয় সম্মেলন রাজশাহীতে হচ্ছে এটা আমার খুব ভালো লাগছে। ঢাকাতে যারা আছে শুধু তারাই দেশ টা চালায়। কিন্তু এমন না সবার সমান ভূমিকা রয়েছে। অবশ্য আমরা অনেক সময় তা মূল্যায়ন করি না। আপনারা যারা লেখালেখির কাজ করেন। আপনারা আপনাদের লেখায় বর্তমান সময় রেখে যান। যেন ২০০/৩০০ বছর পর মানুষ জানতে পারে এখনকার সময় কেমন ছিল। মানুষের ভালোবাসা, আবেগ, জীবন, জীবিকা সব কিছু লেখার মাধ্যমে তুলে ধরুন। একই সাথে এ ধরনের অনুষ্ঠান ভালো বই লেখার জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. সালেহ হাসান নকীব বলেন, আমরা এমন একটা সময়ে এসে বসবাস করছি, যেখানে বই কেনা ও বই পড়ার অভ্যাস নাই বললেই চলে। এর একটি কারণ হলো ইন্টারনেট ও আমাদের হাতের ডিভাইস গুলোর সহজলভ্যতা। আমরা শুধু বই পড়ি না বরং অতীত ইতিহাস, মতাদর্শ বা সভ্যতাগুলোর সাথে কথা বলি। কবির কবিতা পড়ি না বরং তার আদর্শ ধারণ করি। সুতরাং বই পড়ার বিকল্প অন্য কিছু নাই। দেশের ২-১ টি প্রকাশনা শিল্প ছাড়া বাকিগুলো ধুকে ধুঁকে আগাচ্ছে। তার প্রধান কারণ আমরা বই পড়ি না।
বই পড়ার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে তিনি বলেন, অবসর সময়ে জ্ঞান অর্জন করা, গভীর ভাবে মনোনিবেশ করে কোনো কিছু ভাবা, সমসাময়িক বিষয় গুলো বিশ্লেষণ করা বা অন্তঃবিশ্বাস বিকশিত করার জন্য আমাদের অবশ্যই বই পড়া উচিত।
সাহিত্য ও সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ২১ জনকে পদক প্রদান করা হয় এই অনুষ্ঠান থেকে। পদকপ্রাপ্তরা হলেন- কবিতায় শিবলী মোকতাদির, ছড়াতে মাসুম আওয়াল, কথা সাহিত্যে আনিফ রুবেদ, শিশু সাহিত্যে আজিজ রহমান, লোকসাহিত্যে ড. কনক আমিরুল ইসলাম, ছোট কাগজে (কুঁড়ি) এম এ খালেক, সম্পাদক হিসেবে অচিন্ত্য চয়ন, সংগঠক হিসেবে ওমর ফারুক বাসাপ, প্রকাশক হিসেবে মঈন মুরসালিন, সমাজসেবায় ড. হোসনে আরা বেগম (টিএমএসএস), সেরা পাঠক হিসেবে আহমেদ জোহা এবং মরণোত্তর রোমেনা আফাজ (কথাসাহিত্যিক)।
এছাড়াও কবিতায় নিখিল নওশাদ, ছড়ায় আমির খসরু সেলিম, শিশুসাহিত্যো আজিজ রহমান, কিশোরগল্প, রাহমান ওয়াহিদ, ছোটগল্পতে আনিছুর রহমান, প্রবন্ধতে শোয়েব শাহারিয়ার, ছোট কাগজের ক্ষেত্রে প্রত্যয় হামিদ, সংগঠক হিসেবে এইচ আলিম এবং সমাজসেবায় এম রহমান সাগর (দিশারী ফুডস) পদক পেয়েছেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আশরাফুল ইসলাম, প্রীতি দত্ত, নাদিম সিনা ও মাহির ইসলাম। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানটি সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাতে শেষ হয়। এর আগে, আলোচনা অনুষ্ঠান, আবৃত্তি প্রতিযোগীতা, কবিতা পাঠসহ ছয়টি বিষয়ের ওপর ছয়টি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কয়েকশত সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী উপস্থিত ছিলেন।