কেশরহাটের সব কলেজে এইচএসসির ফলাফলে ধস!
কেশরহাট পৌরসভা অল্প আয়তন বিশিষ্ট জনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৫টি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিগত সময়ে উজেলার শীর্ষ স্থান অর্জন করা প্রতিষ্টানেও এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ধস নেমেছে। এনিয়ে আলোচনা সমালোচনায় পড়েছে এসকল প্রতিষ্ঠান। শিক্ষকদের দুষছেন অবিভাবকরা এবং শিক্ষকরা দুষছেন অভিভাবকদের। তবে সচেতন মহলের ভিন্নমত।
কেশরহাট টেকনিক্যাল কলের অধ্যক্ষ এজাহারুল হক জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অনিয়মিত এবং অমনযোগি, অভিভাবকদের উদাসীনতাসহ নানা কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে।
কেশরহাট মহিলা কলের অধ্যক্ষ তাজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ইংরেজি বিষয়ে অনেক বাচ্চারা ফেল করেছে। এজন্য চলমান আধুনিক ইংরেজি শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে ইংরেজি শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর প্রয়োজন। শুধুমাত্র শিক্ষকদের দোষারোপ করে অভিভাবকদের দায় এড়ানো যাবেনা। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক সকলকে ভাল ফলাফলের প্রচেষ্টায় থাকতে হবে।
কেশরহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আসলাম হোসেন খান জানান, সচেতন অভিভাবকের সহযোগিতায় শিক্ষকরা মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করতে পারেন। এরপরও অধিকাংশ মেধাবিরা বড় প্রতিষ্ঠানেই ভর্তি হয়। অন্যকোথাও চান্স না পাওয়া শিক্ষার্থীরাই আমাদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোয় ভর্তি হয়। আমরা তাদের মেধাবী তৈরির চেষ্টা করে থাকি। বিগত দিনে আমার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভাল রেজাল্ট অব্যাহত ছিল এবার খারাপ হয়েছে। আগামী দিনে আবারও ভাল ফলাফল অর্জিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেশরহাট পৌরসভার আয়োতন ১৬.২১বর্গ কিলোমিটার। ১৭টি গ্রামের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। এখানে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কেশরহাট কলেজ, কেশরহাট মহিলা কলেজ, সাঁকোয়া-বাকশৈল কামিল মাদ্রাসা, কেশরহাট টেকনিক্যাল কলেজ এবং কেশরহাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট। এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ সালের প্রকাশিত ফলাফলে সকল প্রতিষ্ঠানের নাজুক অবস্থা। এসকল প্রতিষ্ঠানের সর্বনিম্ন পাসের হার ৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ পাসের হার ৪০ শতাংশ। প্রকাশিত ফলাফলে কেশরহাট কলেজের শিক্ষার্থীদের পাসের হার ১০.৩১ শতাংশ। এ কলেজের মোট ৯৭ জন শিক্ষার্থী পরিক্ষা দিয়ে পাস করেছেন ১০জন, কেশরহাট টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৯.৩ শতাংশ। এ কলেজের মোট ৬৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৫ জন পাস করেছেন।
কেশরহাট টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৫.৭ শতাংশ। বিগত বছরগুলোতে এ প্রতিষ্ঠানের পাসের খুব থাকলে এবার ধসের সারিতে রয়েছে। কেশরহাট মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের পাসের হার ২৯.৭৩ শতাংশ। এ কলেজের মোট ৩৭জন পরিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১১জন পাস করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের আওতায় অনুষ্ঠিত আলিম পরিক্ষায় মোহনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাঁকোয়া-বাকশৈল কামিল মাদ্রাসার পাসের হার ৪০ শতাংশ। এ মাদ্রাসার মোট ৫০ জন পরিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ২০ জন পাস করেছেন। এদিক থেকে কেশরহাট পৌর এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাসের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সাঁকোয়া- বাকশৈল কামিল মাদ্রাসা।
এবিষয়ে কেশরহাট প্রগতি সংঘের আহবায়ক বিএনপি নেতা ওসমান আলী জানিয়েছেন, কলেজগুলোর অধিকাংশ শিক্ষকরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এখান থেকে ফিরে এসে শিক্ষকদের পেশার প্রতি গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।্আরো বলেন শিক্ষকরা আলু ও বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িয়েছে। তারা ব্যবসায়িকভাবে ব্যবসাযক্ষেত্রে মনোনিবেশ করায় পাঠদানে বিঘ্ন ঘটায়। এতে শিক্ষকরা মনস্তাত্তিকভাবে পাঠদানের বিষয়ভিত্তিক ছাত্রদের বুঝাতে অক্ষম হন। তাই এ থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকদের পাঠদানে মনোনিবেশসহ অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে ছাত্র এবং শিক্ষকদের নিয়ে সাপ্তাহিক টিম ওয়ার্ক করা জরুরী।
কেশরহাট পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান জানান, শিক্ষার্থীরা ক্লাসে অনিয়মিত এবং অমনযোগি থাকে। বিগত সময়ে পরিক্ষা দিলেই পাস এখনও সে চিন্তা ও মনমানসিকতায় নিয়ে থাকত। সরকারের কার্যকরী শিক্ষা ব্যবস্থায় পাসের হার থেকে তা ছিটকে পড়েছে। শুধু শিক্ষকদের দোষারোপের কিছুই নাই। অভিভাবক সমাবেশ করা হয়ে দুই একজন অভিভাবক আসেন। সবশেষ একটু পড়াশুনা করলেই শিক্ষার্থী পাস করবে আশাকরি।