বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ০৫, ২০২৬

গোদাগাড়ীতে সাঁওতালদের পবিত্র স্থান ‘মাঞ্জহি থান’ দখলের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৮ অপরাহ্ন
গোদাগাড়ীতে সাঁওতালদের পবিত্র স্থান ‘মাঞ্জহি থান’ দখলের চেষ্টা
প্রশাসনের আশ্বাসে আবার মাঞ্জহি থান প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন সাঁওতালরা

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থান ‘মাঞ্জহি থান’ দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।


উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের মহালানপাড়া গ্রামে এই মাঞ্জহি থানটি অবস্থিত। এ গ্রামে ৩৫টি সাঁওতাল পরিবারের বসবাস। বহু বছর ধরেই এই গ্রামের সাঁওতালরা মাঞ্জহি থানের পাশে থাকা প্রায় চার কাঠা জমিতে ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন। ওই জায়গাটিই সৈয়দপুর গ্রামের ইসমাইল সরকার ও তার ভাই ইব্রাহিম সরকার দখলের চেষ্টা করছেন বলে তাদের অভিযোগ।


মাঞ্জহি থান আদিবাসী সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উপাসনার একটি পবিত্র স্থান। গ্রামের নির্দিষ্ট স্থানে কোনো পবিত্র গাছকে কেন্দ্র করে এটি গড়ে ওঠে। এখানে সাঁওতালরা তাদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় আচার পালন করেন। মাঞ্জহি থান সাঁওতালদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ।


জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, মাঞ্জহি থান রয়েছে ২৪ নম্বর দাগে। এর পাশে ইসমাইল সরকার ক্রয়সূত্রে ৫৯ নম্বর দাগের চার বিঘা জমির মালিক। মাঞ্জহি থানের জমি আলাদা বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল। গত সোমবার ইসমাইল সরকার ও তার ভাই ইব্রাহিম সরকার ট্রাক্টর দিয়ে জমির বেড়া ভেঙে ফেলে সেটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সাঁওতালদের পবিত্র স্থান মাঞ্জহি থানও ভেঙে দেওয়া হয়।


তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়। পরে তার নির্দেশে কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল গিয়ে ইসমাইল সরকারকে জমি দখলে বাধা দেয়। পরদিন সাঁওতালদের পক্ষে সুখেন মার্ডি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।


মহালানপাড়া গ্রামের সাঁওতালরা জানান, জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে তাদের মাঞ্জহি থান কেউ দখল করতে পারবে না। এ আশ্বাস পেয়ে তারা বুধবার থেকে আবার মাঞ্জহি থান প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন। সকালে এই কাজ পরিদর্শন করেন সিসিবিভিওর নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল ও মানবাধিকারকর্মী আরিফ ইথার।


বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল বলেন, উপাসনালয় ভাঙচুর কেবল অপরাধ নয়, এটি আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের দ্রুত ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন আমরা দেখতে চাই। তিনি আদিবাসী সম্প্রদায়ের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও নিরাপত্তার লড়াইয়ে তাদের পক্ষ থেকে আইনি সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত ইসমাইল সরকারের মোবাইল ফোনে কল করা হয়। তবে তার স্ত্রী ফোন ধরে জানান, তিনি কথা বলবেন না। তাই ইসমাইলের সঙ্গে কথা বলা যায়নি।


জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সাঁওতালরা গাছের নিচে একটি পাথর রেখে ধর্মীয় আচার পালন করেন। সেটিই তাদের পবিত্র স্থান। ইউএনও এবং পুলিশকে বলে দেওয়া হয়েছে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারে। জায়গা কেউ দখলে নিতে পারবে না।