শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

রাজশাহীতে দোয়া মাহফিল ও ফুলের শুভেচ্ছায় শাহ্ মখদুম কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

WP Import ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:৪০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:৪০ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে দোয়া মাহফিল ও ফুলের শুভেচ্ছায় শাহ্ মখদুম কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
রাজশাহীতে দোয়া মাহফিল ও ফুলের শুভেচ্ছায় শাহ্ মখদুম কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত


নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে শাহ্ মখদুম কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয় ফুল দিয়ে। এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত নবীনবরণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ খালিদ আলম। নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শিক্ষাজীবনের এই নতুন যাত্রা হবে দায়িত্ব, শৃঙ্খলা এবং মানবিক মূল্যবোধে পরিপূর্ণ।

সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য এখন থেকেই আত্মনিয়োগ করতে হবে। নিয়মিত ক্লাস, অধ্যবসায় ও সময়কে যথাযথ কাজে লাগানোই সফলতার মূল চাবিকাঠি।”

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ এস.এম. রেজাউল ইসলাম। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন,“বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। অতীত ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। নিয়মিত ক্লাস করলে কোচিং সেন্টারের প্রয়োজন হবে না। ক্লাসমুখী হতে পারলেই প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন রাজশাহী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন। তিনি বলেন,“শিক্ষার্থীদের শুধু বইয়ে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। নিজেদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়াতে যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তি জ্ঞান এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। সুশিক্ষিত তরুণরাই আগামী সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ভূমিকা রাখবে।”

তিনি আরও বলেন,“শিক্ষা বাণিজ্যিকীকরণ হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হবে। কোচিং নির্ভরতা বাড়লে শিক্ষা অকার্যকর হয়ে পড়বে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শহরের অধিকাংশ কোচিং সেন্টার শিক্ষাকে সেবা হিসেবে না দেখে মুনাফাকেন্দ্রিক ব্যবসা হিসেবে পরিচালনা করছে। ‘ভাইয়া গ্রুপ’ নামে পরিচিত অননুমোদিত শিক্ষকরা নানা স্থানে ব্যাচ পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছে। এদের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন ও কলেজের বিদ্যোৎসাহী সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য অ্যাডভোকেট মুহা. আতিকুর রহমান। কলেজের শিক্ষক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ নবীনবরণ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ কলেজ ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবের আমেজ। অনুষ্ঠান শেষে নবাগত শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে নবীনবরণ সম্পন্ন হয়।