শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

নির্বাচন হবে প্রতিহিংসামুক্ত : মিলন

WP Import ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৫৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৫৬ অপরাহ্ন
নির্বাচন হবে প্রতিহিংসামুক্ত : মিলন
নির্বাচন হবে প্রতিহিংসামুক্ত : মিলন

নিজস্ব প্রতিবেদক:


বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক, দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন বলেছেন, এবারের নির্বাচন সম্পূর্র্ণ প্রতিহিংসা মুক্ত করার জন্য বিএনপি কাজ করছে। এজন্য প্রতিটি ভোট কেন্দ্র জনগণ যেন নির্বিঘেœ ভোট প্রদান করতে পারে, সেজন্য নির্বাচন কেন্দ্র কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন। সেইসাথে কমিটি জীবনবাজি রেখে ভোটকেন্দ্র সন্ত্রাসমুক্ত রাখবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বিকেলে নওহাটা পৌরসভার নওহাটা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নওহাটা পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এই কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলেন বাংলাদেশের উজ্জল নক্ষত্র। তিনি বিগত সময়ে তেইশ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করে সবগুলোতেই বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি সাবেক মেজর জেনারেল, সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মীনি। তিনি নিজেও তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি একজন মাদার অব ডেমোক্রেসী ও আপোষহীন নেত্রী।
মিলন বলেন, খুনি হাসিনা দেশবাসী ও তার দলের নেতাকর্মীদের রেখে বার বার দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলো। শেষবার গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলেনর মুখে প্রাণ ভয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়ে বসে আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। খুনি হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর আগে দীর্ঘ সতের বছরে বিএনপির বিশ হাজার নেতাকর্মীকে খুন, সতের’শো নেতাকর্মীকে গুম, ষাট লক্ষ নেতাকর্মীর নামে পাঁচ লক্ষ মামলা দায়ের করেছিলো। সেইসাথে গণতন্ত্রকে হত্যা করে একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছিলো।

মিলন বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম এই নির্বাচনের পরিবেশ ঘোলা করতে গভীর ষড়যন্ত্র করছে। জামায়াত নির্বাচন করার জন্য প্রতিটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। কিন্তু তারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। জামায়াতে ইসলাম হচ্ছে একটি মোনাফেক দল। এই দল ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ভারতের পক্ষ হয়ে কাজ করেছিলো। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছিলো। সে সময়ে তারা বাংলাদেশের অনেক মানুষকে হত্যা এবং নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে সহায়তা করেছে।

শুধু তাই নয় ১৯৮৬ সালে জাতীর সাথে মোনাফেকী করে সাবেক প্রেসিডেন্ট স্বৈরাচার হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এর সাথে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেছিলো। এছাড়াও ১৯৯৬ সালে আজাজা বাহিনী গঠন করে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলো। এতে করে জামায়াত অনেক লাভবান হয়েছে। তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের হাসিনা ফাঁসিকাষ্টে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে। এতেও তাদের শিক্ষা হয়নি। আবারও ভারতের দালালি শুরু করেছে। একবার তারা পিআর পদ্ধতি, একবার সংস্কার আবার এখন গণভোট নিয়ে নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। আসলে তারা জনগণকে এভাবে ধোকা দিচ্ছে। সেইসাথে বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করে জনগণের সাথে আবারও মোনাফেকী করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই মোনাফেক দল থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মিলন।

নওহাটা পৌর ১নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আলমগীর খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওহাটা পৌর সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপি’র সদস্য শেখ মকবুল হোসেন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সালাম মাস্টার, নওহাটা পৌর বিএনপি’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাকিবুল ইসলাম পিটার, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান।