আমনের আশানুরূপ ফলনে উচ্ছ্বসিত চাষিরা

গোদাগাড়ীর চৈতন্যপুর গ্রামে আদিবাসী নারীদের নিয়ে একটি নবান্ন উৎসব ও ধান কাটা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই উৎসবে ধান কাটা, নাচ-গান এবং খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এটি পহেলা অগ্রহায়ণ উপলক্ষে আয়োজিত একটি ঐতিহ্যবাহী উদযাপন, যেখানে স্থানীয় সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষ অংশ নেয়। ছবিটি রোববার (১৬ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে চারটার সময় চৈতন্যপুর গ্রামে তোলা।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অতিবৃষ্টিতে আমন ধানের চারা পচে যাওয়ার পরও হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। কৃষকের সোনালী পাকা ধান দোল খাচ্ছে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে। রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ার পাশাপাশি ফলন ভালো হওয়াতে খুশি কৃষকরা। ধান পাকতে শুরু করায় কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।
চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষে আশানুরূপ ফলন দেখে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা। সময়মতো বৃষ্টি, অনুকূল আবহাওয়া, কম খরচে বেশি ফলনের সম্ভাবনা। সব মিলিয়ে এবারের মৌসুম নিয়ে আশাবাদী তারা। কৃষি কর্মকর্তারাও বলছেন, সময়মতো সার, বীজ, কীটনাশক ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী, তানোর, পবা, মোহনপুর, বাগমারা, দুর্গাপুর ও চারঘাটের মাঠজুড়ে এখন সোনালী ধানের হাওয়ায় মুখর গ্রামাঞ্চল। মাঠে চলছে ধান কাটার উৎসব। কৃষকরা বলছেন, এবার আবহাওয়া ছিল অনুকূলে, সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচ খরচ কম পড়েছে। ফলে আগের বছরের তুলনায় উৎপাদনও ভালো। তবে শেষ সময়ের বৃষ্টিতে অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। যা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় ৮৩ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে, যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৭ হাজার ৪৯০ মেট্রিক টন। গত অর্থবছরে চাষ হয়েছিল ৮৪ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে, উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ১৮ হাজার ৩২৩ মেট্রিক টন।
তবে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ধানক্ষেতে সামান্য ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। কৃষক ও কর্মকর্তাদের মতে, সময়মতো আবহাওয়ার অনুকূলতা বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে রোপা আমনে বাম্পার ফলন হবে, যা জেলার খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুর্গাপুর উপজেলার দেবীপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান চলতি মৌসুমে প্রায় ২ বিঘা জমিতে বিনা-১৭ ধান চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু করেছেন এবং আশা করছেন বিঘা প্রতি ২০-২২ মণ ধান পাবেন। ধানের দাম আশানুরূপ থাকলে তিনি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন। তিনি বলেন, এবাওে জমিতে পানি দেওয়া লাগেনি বললেই চলে। এতে খরচও অনেক বেচে গেছে। ধানের দাম পেলে লাভ বেশি হবে।
গোদাগাড়ী উপজেলার ঘিয়াপুকুর গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, এ বছর পানি নিয়ে খুব চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ঠিক সময়ে বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে শেষ সময়ের বৃষ্টি চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। এতে ধান ক্ষতিগ্রস্থ হলেও আশা করি কিছুটা লাভ করতে পারবো। সময়টা আমাদের জন্য উৎসবের। আমরা একে বলি আমন উৎসব।
তানোর উপজেলার চিমনা গ্রামের কৃষক সানাউল্লাহ বলেন, গেলবার সেচে অনেক খরচ পড়েছিল, এবার প্রকৃতির আশীর্বাদে তেমন খরচ হয়নি। ফলনও ভালো হয়েছে। বৃষ্টিতে সামান্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি।তবুও আশা আছে ধানের দাম পেলে লাভ পাবো কিছুটা।
চারঘাট উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের কৃষক আবদুর রহিমন রহিম জানান, গেল কয়েক বছর বিভিন্ন কারণে আমন চাষের ফলন কম ছিল। কিন্তু এ বছর আবহাওয়া অনুকূল ছিল এবং কীট-পতঙ্গ তেমন ছিল না, এ কারণে ফলন ভালো হয়েছে।
পবা উপজেলার ধর্মহাটা গ্রামের কৃষক মাইনুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে সাধারণত ৭ থেকে ৮ মণ আমন ধান হয়। তবে কিছু জাত আছে, যেমন ডেপু জাতÑএতে ফলন একটু বেশি হয়, প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পর্যন্ত ধান পাওয়া যায়।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, বৃষ্টিতে কিছু জায়গায় ক্ষতি হলেও সামগ্রিকভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে তেমন প্রভাব ফেলবে না। বিভিন্ন উপজেলায় ধান কাটাও শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে।