শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

ছাত্রশিবিরের রিপোর্ট বই ব্যবহার করলে হতাশায় ভোগা লাগবে না: সাদিক কায়েম

WP Import ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৪৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
WP Import ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:৪৪ অপরাহ্ন
ছাত্রশিবিরের রিপোর্ট বই ব্যবহার করলে হতাশায় ভোগা লাগবে না: সাদিক কায়েম
ছাত্রশিবিরের রিপোর্ট বই ব্যবহার করলে হতাশায় ভোগা লাগবে না: সাদিক কায়েম

রাবি প্রতিবেদক:


ছাত্রশিবিরের রিপোর্ট বই ৫ বছর ব্যবহার করলে কাউকে হতাশায় ভুগতে হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আপনাদের উপহারসামগ্রীর মধ্যে একটা রিপোর্ট বই দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই সায়েন্টিফিক রিপোর্ট বই। এই রিপোর্ট বইটা যদি আপনারা ৫ বছর রাখেন (ব্যবহার করা), তাহলে ৫ বছর পরে এখানকার কাউকে হতাশায় ভুগতে হবে না। আপনাকে নিয়ে আপনার বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ।

নবীন শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করে তিনি বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করবো, আপনার শিবির করার দরকার নাই কিন্তু নিজের কল্যাণের জন্য রিপোর্ট বইটা রাখবেন। ইসলামি ছাত্রশিবিরের অসাধারণ সাহিত্য রয়েছে। আপনি সমাজনীতি, রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্র নীতি বুঝতে চান, দেশ-বিশ্ব সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে ইসলামি ছাত্রশিবিরের সাহিত্যগুলো সম্পর্কে একটু জানবেন। ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটে ছাত্রশিবিরের সিলেবাস পাবেন, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি, বড় রাজনৈতিক দলগুলো ফ্যাসিবাদীদের ভাষায় কথা বলছে। ঐক্যমত্য কমিশনের সুপারিশের মেজর রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়গুলোতে মেজর পলিটিক্যাল পার্টি, নিজেদের বড় দল দাবি করে, তারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। তাঁরা এখন গণভোট ও জুলাই সনদের আইনী ভিত্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের হাস্যরসাত্বক কথা বলছে। আমরা বলতে চাই, আপনারা এই ধরনের ভুল করবেন না, যে ভুল খুনী হাসিনা ও তাঁর দোসররা করেছিল।

ডাকসু ভিপি আরও বলেন, আপনারা ছাত্রশিবিরকে ভয় দেখাবেন না। ইসলামি ছাত্রশিবিরকে ভয় দেখিয়ে কেউ এই বাংলাদেশে টিকতে পারে নাই। ইসলামি ছাত্রশিবিরকে দমন করার জন্য খুনী হাসিনা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সবরকম চেষ্টা করেছে। সবশেষে ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু ছাত্রশিবির বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ের মধ্যে থেকে গিয়েছে। আর ফ্যাসিবাদী খুনী হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে। ইসলামি ছাত্রশিবির এক আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পাই না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশে খুনী হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার করতে হবে। খুনী হাসিনাকে দেশে এনে তার ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে, বিচারবিভাগে, আইনবিভাগে সচিবালয়ে ফ্যাসিবাদের দোসররা বসে রয়েছে। কিছু দোসররা গর্ত থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে যেকোনোভাবে থামিয়ে দিবেন। বাংলাদেশে খুনী হাসিনা ও তার দোারদের রাজনীতি করার কোনো অধিকার নাই। ওটাতো রাজনৈতিক দলনা, ওইটা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। বাংলাদেশে রাজনীতি করবে বাংলাদেশন্থীরা।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন রাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, রুয়া’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামির সেক্রেটারি এমাজউদ্দীন মন্ডল, রাবি কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হোসাইন আহমেদ মাহদি, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক আব্দুল মোহাইমিন ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও রাকসু’র ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদ ফয়সাল।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই নবীন শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। প্রথমে তাদের ফুল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে বরন করে নেওয়া হয়। উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিলো কুরআন শরীফ, ইসলামি বই, কলমদানি, ফুল, রিপোর্ট বই ও দুপুরের খাবার। অতিথিদের বক্তব্যের মাঝে মাঝে ইসলামি সঙ্গীত পরিবেশ করে বিকল্প সাহিত্য-সাংস্কৃতিক সংসদের শিল্পীরা।