শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

বিচারকের ছেলের খুনে মামলা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু, অর্থনৈতিক বিরোধে এ হত্যাকা-: পুলিশ

WP Import ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
WP Import ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন
বিচারকের ছেলের খুনে মামলা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু, অর্থনৈতিক বিরোধে এ হত্যাকা-: পুলিশ
বিচারকের ছেলের খুনে মামলা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু, অর্থনৈতিক বিরোধে এ হত্যাকা-: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহমান তার ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে (১৬) খুনের ঘটনায় মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে সই দিয়ে ছেলের মরদেহ নিয়ে জামালপুরের গ্রামের বাড়ি রওনা হন। পরে রাজপাড়া থানা-পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। এর আগে সকালে সুমনের ময়নাতদন্ত করা হয়। তার মৃত্যু হয়েছে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে। ধারালো ও চোখা অস্ত্রের আঘাতে তার শরীরের তিনটি স্থানে রক্তনালি কেটে গিয়েছিল। এর ফলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও হয়েছিল বলে জানিয়েছে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান।

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ দাবি করেছে, তাসমিন নাহার লুসীর (৪৪) কাছ থেকে টাকা নিতেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য লিমন মিয়া (৩৫)। টাকা দেওয়া বন্ধ করার কারণেই বিচারকের ছেলেকে খুন ও স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। অভিযুক্তর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ এই বক্তব্য দিয়েছে। তবে তারা বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন।
মামলা রেকর্ডেও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গাজিউর রহমান বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিচারক দুপুরে নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার একমাত্র আসামি লিমন মিয়া (৩৫)। তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসা শেষে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।
আসামি লিমন মিয়ার বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া ভবানীগঞ্জ গ্রামে। তার বাবার নাম এস এম সোলায়মান শেখ। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য ও ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। লিমন সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে চাকরি করতেন। ২০১৮ সালে তার চাকরি চলে যায়। এরপর থেকে সে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছিলেন লিমন। তবে সংসার টেকেনি। বিচারক আব্দুর রহমানের স্ত্রী তাসমিনা নাহার লুসীর (৪৪) সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল। তার কাছ থেকে লিমন টাকা নিতেন। পুলিশের ভাষ্য, টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিলে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন লিমন। দিয়েছিলেন প্রাণনাশের হুমকিও। এ নিয়ে ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন তাসমিনা নাহার লুসী।
বিচারক আব্দুর রহমান এক বছর আগে শ্রম আদালতের বিচারক হয়ে রাজশাহী আসেন। গত মাসে তাকে মহানগর দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়। রাজশাহী আসার পর মহানগরীর ডাবতলা এলাকায় বাসাভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে তাওসিফকে নিয়ে থাকতেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটায় এই বাসায় যান লিমন। সেখানে তাওসিফকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসাধীন তাসমিনা নাহারও। এ ছাড়া ধস্তাধস্তিতে হামলাকারী নিজেও আহত হন। পরে তিনজনকেই ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাওসিফকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাওসিফের মরদেহ ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক কফিল উদ্দিন ও একই বিভাগের প্রভাষক শারমিন সোবহান কাবেরী। ময়নাতদন্ত শেষে মর্গের ভেতরে ঢুকে ছেলের মরদেহ একনজর দেখতে যান বাবা বিচারক আবদুর রহমান। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
রামেকের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কফিল উদ্দিন জানান, তাওসিফের ডান ঊরু, ডান পা ও বা বাহুতে ধারালো ও চোখে অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। এই তিনটি জায়গায় রক্তনালি আছে। সেগুলো কেটে গিয়েছিল। এ কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও ছিল শরীরে। তাঁরা মনে করছেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে তাওসিফের গলায় কালশিরা দাগ রয়েছে বলে বলা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বলেছেন, নরম কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধের কারণে এই দাগটি হতে পারে। তবে এটি মৃত্যুর প্রধান কারণ নয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা একই সময়ে হয়েছে বলেও জানান ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।
ময়নাতদন্তের পর কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের রাজশাহী সেন্টারের সদস্যরা রামেক হাসপাতালের নির্ধারিত কক্ষে মরদেহের গোসল করিয়ে দেন। পরে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সেই মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত তাওসিফ রাজশাহী সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিক আছেন বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচার হওয়ার থেকে তিনি স্বাভাবিক আছেন। তাকে নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। সুস্থ হতে সময় লাগবে।