শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

নগরীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত

WP Import ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৮ অপরাহ্ন
WP Import ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৮ অপরাহ্ন
নগরীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত
নগরীতে বাসায় ঢুকে বিচারকের ছেলে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত

নিজস্ব প্রতিবেদক:


নগরীতে বাড়িতে ঢুকে বিচারকের ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় গুরুতর আহত হয়েছেন বিচারকের স্ত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। হামলাকারী যুবককেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে নগরীর তেরখাদিয়া ডাবতলায় একটি বহুতল ভবনের অ্যাপার্টমেন্টের পঞ্চম তলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম তাওসিফ রহমান সুমন (১৬)। সুমন রাজশাহী মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের ছেলে।

সুমন একটি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি (৪৪) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আটক ওই যুবকের নাম লিমন মিয়া (৩৫)। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার ভবানীগঞ্জ গ্রামে।
ভবনে ঢোকার সময় ওই যুবক দারোয়ানের কাছে থাকা খাতায় নিজের নাম লিখেছেন লিমন। বিচারক আব্দুর রহমান সম্পর্কে ভাই, এ পরিচয় দিয়ে তিনি পাঁচতলার ফ্ল্যাটে চলে যান। ভবনে ঢোকার সময় তার হাতে একটি ব্যাগ ছিল।

ভবনের দারোয়ান মেসের আলী জানান, ওই যুবককে তিনি আগে কখনও দেখেননি। বিচারককে ভাই পরিচয় দেওয়ায় তিনি ঢুকতে দেন। তবে তার আগে নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর লিখিয়ে নেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ওই যুবক ফ্ল্যাটে যান। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী তাকে এসে জানান যে, ফ্ল্যাটে বিচারকের ছেলেকে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও চলে আসেন। তারা সবাই ফ্ল্যাটে ঢুকে তিনজনকেই আহত পান। এরপর তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিহত সুমনের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আর হামলাকারী যুবক ও বিচারকের স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে।
সুমনের মা তাসমিন নাহার লুসি গেল ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় লিমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি হত্যার হুমকির কথা উল্লেখ করেছিলেন। মামলা দায়েরের এক সপ্তাহ পর এই ঘটনাটি ঘটে।

তাসমিন নাহার জিডিতে উল্লেখ করেছিলেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একজন সদস্যের মাধ্যমে লিমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। লিমনের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায় তাকে বেশ কয়েকবার আর্থিক সহায়তা করি। কয়েকবার আর্থিক সহায়তা করার পর আর সাহায্য করতে পারবেন না বলে জানালে লিমন ক্ষুব্ধ হন। সেই থেকে লিমন ফোনে হুমকি দিতে শুরু করেন। ৩ নভেম্বর সকাল ১০টা ২০ মিনিটে লিমন তার মেয়েকে ফোন করে তাকে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয় বলে জিডিতে উল্লেখ করেন।
জালালাবাদ থানার উপ-পরিদর্শক এবং জিডির তদন্ত কর্মকর্তা প্রণব রায় বলেন, জিডি পাওয়ার পর তারা লিমনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। এর মধ্যে সে জামিন নিয়ে বের হয়ে গেছে।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, লিমনের পরিবারের সাথে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। আমাদের সন্দেহ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে লিমন এই হামলা চালিয়েছে। আরও তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনার পর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। তিনি জানান, হামলাকারী ব্যক্তির পকেটে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি চালক। তার সঙ্গে পূর্ববিরোধ থাকতে পারে। সিলেটের জালালাবাদ থানায় এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন তাসমিন নাহার। কেন এই ঘটনা ঘটেছে তা তারা এখনও বিস্তারিত জানেন না।

রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে হত্যার ঘটনায় প্রধান বিচারপতির শোক
রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে হত্যা ও স্ত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ শোক জানান প্রধান বিচারপতি।
এতে বলা হয়েছে, আজ রাজশাহীর মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহমানের বাসভবনে ঘাতকের আঘাতে তার ছেলে নিহত হয়েছেন এবং বিচারকের স্ত্রী আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ রাজশাহীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিচার বিভাগের একজন সদস্যের পরিবারের ওপর এ নৃশংস আক্রমণ নিন্দনীয়, অমানবিক এবং গভীরভাবে বেদনাদায়ক।

প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট ও সমগ্র বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন এবং আহত ব্যক্তির দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় সুপ্রিম কোর্ট এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট সব অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুততার সঙ্গে একটি যথাযথ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার যথাযথ পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয় এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতি তদন্তের সততা ও স্বচ্ছতা প্রতিটি ধাপে অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। বিচার বিভাগ প্রত্যাশা করে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করবে।

সুপ্রিম কোর্ট আগামী দিনগুলোতে এই ঘটনার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে ন্যায়বিচার দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই শোকের মুহূর্তে সুপ্রিম কোর্ট শোকাহত পরিবারের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি দেশের আদালতগুলো ও বিচারকদের বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দিলে গত ২৮ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সই করা একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে পাঠানো হয়েছিল।#