প্রতারণার অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজশাহীতে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর আমচত্বর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে শাহমখদুম থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাছুমা মুস্তারী। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর আমচত্বর এলাকা থেকে আসামি রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। বুধবার সকালে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন- পবা উপজেলার ভূগরইল পশ্চিমপাড়া এলাকার শামসুদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম রফিক (৩০)। তিনি রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
ভুক্তভোগী সৈয়দা রেহানা আশরাফী বলেন, ‘২০১১ সালে ভূগরইল মৌজার ৫৫১ নম্বর দাগে সোয়া দুই কাঠা জমি কেনার পর বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে দিই। কিন্তু এই আসামি চক্রের সদস্যরা আমার বাউন্ডারি ওয়াল ভেঙে ফেলে। আমি এ বিষয়ে আদালতে অভিযোগ করেছিলাম। এরপরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের রফিকুল ইসলাম আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমির বাউন্ডারি ওয়াল পুনরায় গেঁথে দেওয়ার মৌখিক চুক্তি করে ৩২ হাজার টাকা দাবি করে। আমি টাকা পরিশোধ করলেও তারা কাজ করেনি। ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমি এর উপযুক্ত বিচার চাই।’
তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, শাহমখদুম থানাধীন পশ্চিম ভূগরইল এলাকায় নিজের মালিকানাধীন জমিতে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের জন্য রফিকুল ইসলামের সঙ্গে মৌখিক চুক্তি করেন। পরে ২৫ হাজার টাকা নগদ এবং বিকাশের মাধ্যমে আরও ৭ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর রফিকুল ইসলাম কোনো কাজ না করে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন এবং পরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। তিনি সর্বশেষ গত ৮ নভেম্বর ওই জমিতে গিয়ে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে রেহানা আশরাফী দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আত্মসাথের প্রতারণা মামলা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে আলোচনায় ছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে এর আগে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান লিটন বলেন, ‘কোনো দখলবাজ-চাঁদাবাজকে দলে বরদাশত করা হবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ এই ধরনের অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’