সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

অসহায় রোগীদের জন্য চিকিৎসক দম্পতির ‘বিনামূল্যের ঔষুধ কর্ণার’

WP Import ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪০ অপরাহ্ন
WP Import ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৪০ অপরাহ্ন
অসহায় রোগীদের জন্য চিকিৎসক দম্পতির ‘বিনামূল্যের ঔষুধ কর্ণার’
অসহায় রোগীদের জন্য চিকিৎসক দম্পতির ‘বিনামূল্যের ঔষুধ কর্ণার’

সজিবুল ইসলাম, লালপুর:


ভোগবাদী সমাজে যেখানে চিকিৎসা অনেক সময় ব্যবসা হয়ে ওঠে, সেখানে নাটোরের লালপুরে দন্ত চিকিৎসক দম্পতি ডা. তবিবুর রহমান তুশিন ও তাঁর স্ত্রী ডা. সাবরিনা সিদ্দিকা চৈতি দেখিয়েছেন ভিন্ন উদাহরণ। চিকিৎসাকে তাঁরা শুধু পেশা নয়, নিয়েছেন মানবসেবার মাধ্যম হিসেবে।

উপজেলার গোপালপুর বাজারে নিজস্ব চেম্বারে তাঁরা গড়ে তুলেছেন অসহায় রোগীদের জন্য ‘ঔষুধ কর্ণার’। ৫ বছর যাবৎ বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি থেকে পাওয়া ওষুধের স্যাম্পল দেওয়া হচ্ছে দরিদ্র রোগীদের হাতে একেবারে বিনামূল্যে। শুধু তাই নয়, চেম্বারে সাধারণ ভিজিট ফি রাখা হয়েছে মাত্র ২০০ টাকা। তবে যেসব রোগী আর্থিকভাবে অক্ষম, তাঁদের জন্য চিকিৎসা পুরোপুরি বিনামূল্যে।

সরেজমিনে দেখা যায়, গোপালপুর বটতলা সংলগ্ন শিকদার ডেন্টাল পয়েন্টে চিকিৎসা নিতে এসেছে কয়েকজন। কেউ দাঁতের ব্যথায়, কেউ আবার সাধারণ অসুস্থতা নিয়ে এসেছেন। দরজার পাশে ছোট্ট একটি কাঁচের আলমারিতে সাজানো ওষুধ। এর গায়ে লেখা- গরিব ও অসহায় রোগীদের জন্য ফ্রী ঔষধ (বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত)। সেখান থেকে মরিয়ম নামে বয়স্ক এক বৃদ্ধা চিকিৎসা নেওয়ার পর হাতে কিছু ওষুধ পাচ্ছেন একেবারে বিনামূল্যে। তিনি বলেন, স্বামী দিনমজুর, টাকা দিয়ে ওষুধ কেনা সম্ভব হয় না। এখানে ডাক্তার সাহেব নিজের ছেলের মতো দেখেন, আবার ফ্রি ঔষুধও দেন।

শাহ আলম সেলিম নামে আরেকজন রোগী বলেন, টাকা না থাকলেও এখানে চিকিৎসা দেন। যেখানে সরকারি হাসপাতালেই নিয়মিত সরকারি ঔষুধ পাওয়া যায় না। সেখানে বেসরকারি উদ্যোগে এমন কার্যক্রম শুধু চিকিৎসা নয়, মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

এবিষয়ে ডা. তবিবুর রহমান তুশিন বলেন, চিকিৎসা পেশায় আসার উদ্দেশ্যই ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাই ভিজিট সর্বনিম্ন রেখেছি। যাদের সামর্থ্য নেই, তাদের আমরা বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছি। বিভিন্ন ফার্মাসিউটিক্যালসের ভিজিট থেকে প্রাপ্ত ঔষুধ দিয়ে গরিব ও অসহায় রোগীদের জন্য কর্ণার করেছি। সেখান থেকে বিনামূল্যে ঔষুধ দিচ্ছি।

ডা. সাবরিনা সিদ্দিকী চৈতি বলেন, আমরা চাই, কেউ যেন টাকার অভাবে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। সবাই মিলে এমন ছোট ছোট উদ্যোগ নিলে এক সময় বড় আকারে স্বাস্থ্য সেবায় ভূমিকা রাখবে।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনজুর রহমান বলেন, এধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটি শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, সমাজের প্রতি মানবিক দায়িত্ব পালনেরও অনন্য উদাহরণ। মানুষকে সেবার আলো পৌঁছে দেওয়ার যে প্রয়াস তাঁরা নিয়েছেন, তা ভবিষ্যতে অন্যদের জন্যও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।