শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬
দাম বেড়েছে কম্বলের

রাজশাহীতে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ, অপরিবর্তিত তাপমাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৬ অপরাহ্ন
রাজশাহীতে মৃদ্যু শৈত্যপ্রবাহ, অপরিবর্তিত তাপমাত্রা

রাজশাহীতে গেল দুইদিন থেকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। কনকনে ঠান্ডায় জেঁকে বসেছে শীত। এতে কাবু এই জেলার মানুষ। তবে গেল কয়েকদিনে শীত বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে কম্বলের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বেড়েছে। 


বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবার ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা এ বছরের মধ্যে ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।


গেল তিন-চার দিন ধওে দেখা মিলেনি সূর্যের। বুধবার বেলা গড়ালে তা দেখা মিলে। এর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিলেছে। শীতের কনকনে বাতাসে সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। যারা কাজের প্রয়োজনে বের হচ্ছেন শীতের পোশাক পরেও স্বস্তি মিলছে না।


রাজমাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, টানা দুদিন ধরে রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ছিল শতভাগ। আরও কয়েকদিন শীতের এই তীব্রতা থাকতে পারে।


এ দিকে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধের সংখ্যা। হঠাৎ করেই হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।


এদিকে শীতের কারণে বেড়েছে কম্বলের চাহিদা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কম্বলের দামও। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এ বছর কম্বলের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকেই এখন বেশি দামে কম্বল কিনে আনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারে দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই।


বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাত ও খোলা বাজারে দেশি কম্বল ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উন্নতমানের ও আমদানি করা কম্বলের দাম ৩ হাজার টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে, যা অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে।


সাহেববাজার এলাকার ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীত বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু কম্বলের দাম এত বেশি যে কিনতে কষ্ট হচ্ছে। গত বছর যে কম্বল এক হাজার টাকায় কিনেছিলাম, এবার সেটার দাম চাচ্ছে দেড় হাজারেরও বেশি।


বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, আমরা নিজেরা দাম বাড়াতে চাই না। কিন্তু পাইকারি বাজারে এখন আগের চেয়ে বেশি দামে কম্বল কিনতে হচ্ছে। পরিবহন খরচও বেড়েছে। তাই একটু বেশি দাম নিতেই হচ্ছে।