মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আরেকজন নিহত, ব্যাপক বিক্ষোভের শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে শুল্ক ও সীমান্ত সুরক্ষা বিভাগের এক ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।
অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে ওই অঙ্গরাজ্যে এক নারী নিহত ও ব্যাপক দমনাভিযান ঘিরে কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভ ও উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। এ মাসের শুরুর দিকে এক অভিবাসন কর্মকর্তার রেনে নিকোল গুড নামে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হন।
শনিবার নিহত ব্যক্তির বয়স ৩৭ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনিও মার্কিন নাগরিক বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
পরে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ও ওই গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করেছে, জানিয়েছে বিবিসি।
শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটের দিকে মিনিয়াপোলিসে এ ঘটনা ঘটে।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ট্রিসা ম্যাকলাফলিন বলেছেন, সহিংস আক্রমণের অভিযোগে এক অবৈধ অভিবাসীকে ধরতে মার্কিন বর্ডার পেট্রল কর্মকর্তারা একটি ‘সুনির্দিষ্ট অভিযান’ চালাচ্ছিলেন, তখন এক ব্যক্তি ৯ মিলিমিটার আধা-স্বয়ংক্রিয় বন্দুক নিয়ে হাজির হন।
“কর্মকর্তারা ওই সন্দেহভাজনকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করেন, কিন্তু সশস্ত্র ওই সন্দেহভাজন সহিংস উপায়ে প্রতিরোধ গড়েন।
“নিজের জীবন ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এক এজেন্ট আত্মরক্ষার্থে গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক মেডিকেল সেবা দেন কিন্তু পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়,” বলেছেন ম্যাকলাফলিন।
অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে মিনিয়োপোলিসে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ফেডারেল কর্মকর্তা পাঠানোকে কেন্দ্র করে অঙ্গরাজ্যটিতে যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল, নতুন এ ঘটনা তাতে ‘আগুনে ঘি ঢালবে’ বলেই মনে করা হচ্ছে।
গুলির ঘটনার পরপরই মিনেসোটারি গভর্নর টিম ওয়ালজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, “আজ সকালে ফেডারেল কর্মকর্তাদের হাতে আরেকটি নির্মম গুলির ঘটনার পর মাত্রই হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কথা হল। এটা খুবই বেদনাদায়ক।
“প্রেসিডেন্টকে অবশ্যই এই অভিযান বন্ধ করতে হবে। হাজারো সহিংস, প্রশিক্ষণহীন কর্মকর্তাকে মিনেসোটা থেকে সরিয়ে নিতে হবে। এখনই।”
ঘটনাস্থলে এরই মধ্যে কয়েকশ বিক্ষোভকারী জড়ো হয়েছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশপ্রধান ব্রায়ান ও’হারা।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
“অভিযান বন্ধ হতে আর কত বাসিন্দা, আর কত আমেরিকানকে প্রাণ দিতে হবে, ভয়াবহ আঘাত পেতে হবে?” সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ছুড়েছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ